আলমডাঙ্গায় বেওয়ারিশ গরুর দৌরাত্ম্যে নাজেহাল জনজীবন, ১৫ জুলাই থেকে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ
Spread the love

দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহরে বেওয়ারিশ গরুর দলবদ্ধ চলাচলে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। প্রতিদিন শহরের প্রধান সড়ক, হাই রোড, আলিফ উদ্দিন মোড়, উপজেলা প্রশাসন চত্বর, এমনকি আলমডাঙ্গা থানার সামনে পর্যন্ত এই গরুর উপদ্রব বেড়ে চলেছে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেউ বা কারা প্রতিদিন ১০-১২টি গরু ছেড়ে দিয়ে শহরের রাস্তায় চলাচল করছে, যা জনজীবনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এর আগেও কয়েকবার পৌর প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি। তবে এবার দীর্ঘদিন পর ১৫ জুলাই থেকে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসন কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মেহেদী ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, জনবহুল এলাকায় গরু ছেড়ে পালনের ঘটনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। গরুর মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, প্রয়োজনে গরু বাজেয়াপ্ত করা হবে। পৌর প্রশাসক শেখ রেদুল ইসলাম জানান, শহরের রাস্তায় গবাদিপশু চলাচল বন্ধে যৌথভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণাও চালানো হবে। প্রশাসনের তরফ থেকে গরুর মালিকদের নির্ধারিত জায়গায় পশু পালন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও হাসপাতালমুখী অ্যাম্বুলেন্সগুলো প্রতিনিয়ত গরুর কারণে বিপাকে পড়ছে।” হাই রোড এলাকার ব্যবসায়ী মমিনুর রহমান বলেন, “নিজের সুবিধার জন্য কেউ কেউ গরু ছেড়ে দেয়, কিন্তু এতে সবার সমস্যা হচ্ছে।”

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত অভিযান চালানোর জন্য ১০ জন জনবল ও একটি ট্রাক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসনও একই ধরনের সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির জুলাই মাসের সভায় গবাদিপশুর অবাধ চলাচল বন্ধে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রশাসনের প্রত্যাশা, স্থানীয়দের সহযোগিতায় ও প্রশাসনিক উদ্যোগে দ্রুতই এ সমস্যা নিরসন হবে। নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে প্রতিটি পশুপালককে তাদের গরু খামারে সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31