
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি : পঞ্চগড় জেলা তেতুলিয়ায় সহ বর্ষা মৌসুম সত্ত্বেও নজিরবিহীন খরায় পঞ্চগড় জেলায় রোপা আমন চাষ ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আমন চাষের মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে এলেও পানি সংকটে কয়েকটি জেলার কৃষক এখনও বীজতলাই প্রস্তুত করতে পারেননি। তীব্র রোদে ধান চাষের মাঠগুলো খাঁখাঁ করছে। পানি না থাকায় হালচাষ ও ধান রোপণে কৃষকের ব্যস্ততা নেই। মাঠে মাঠে চরছে গরু-ছাগলের পাল।
সরেজমিন দেখা গেছে, পঞ্চগড় জেলা তেতুলিয়া বেশির ভাগ জমিই অনাবাদি। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকের আমন বীজতলাগুলো প্রখর রোদে হলুদ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। এসব বীজতলার চারা রোপণ করলে পর্যাপ্ত ফল নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
অনেক কৃষক সেচের পানিতে সীমিত পরিসরে চাষাবাদ করছেন। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক বৃষ্টিতে চাষাবাদে প্রতি বিঘায় সেচ খরচ থেকে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা সাশ্রয় হয়। রাসায়নিক সার এবং কীটনাশকও কম প্রয়োজন হয়। এ অবস্থায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। অনাবৃষ্টির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন পরিবেশবাদীরা। পঞ্চগড় তেতুলিয়া ব্যয় হবে দ্বিগুণ
বৃষ্টি কম হওয়ায় তেতুলিয়া উপজেলা আমন আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে ১৩ জুলাই শেষ হচ্ছে আমনের রোপণ মৌসুম। ফলে মৌসুম প্রায় পেরিয়ে গেলেও লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ হয়েছে। বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি উঠিয়ে জমি চাষ করছেন অনেক কৃষক। এতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা; অন্যদিকে চাষাবাদে তাদের খরচ বাড়ছে দ্বিগুন তেতুলিয়া
বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, পানি না থাকায় বেশির ভাগ জমিই অনাবাদি হিসেবে পড়ে আছে। রোহিতা এলাকার কৃষক বলেন, জেলায় সাধারণত মধ্য আষাঢ় থেকে শুরু করে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত আমন ধানের চারা জমিতে রোপণ করা হয়। কিন্তু এবার তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় আমন চাষাবাদ নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। মূলত বর্ষাকালে বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে রোপা আমন চাষ করা হয়। বীজতলায় তৈরি হওয়া চারা ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে জমিতে লাগানো হয়। কিন্তু অনেক কৃষকের চারার বয়স দেড় মাস পেরিয়ে গেছে। তার পরও বৃষ্টির অভাবে চাষাবাদ করতে পারছেন না।
চলতি আমন মৌসুমে পঞ্চগড়
বৃষ্টি হচ্ছে না বললেই চলে। গত এক সপ্তাহে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। তবে কেউ কেউ বিকল্প ব্যবস্থায় বাড়তি খরচে সেচ দিয়ে আমনের চারা রোপণ করছেন। তেতুলিয়া
উপজেলার এলাকার কৃষক সাদিকুল
বলেন, বৃষ্টির পানির অভাবে জমির পাট কেটে ধান রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ধানের চারা জমিতে থেকে হলুদ হয়ে পড়েছে। শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে চারা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। বৃষ্টি না হলে পাটও কেটে পচানো যাবে না। ধানও রোপণ করা যাবে না। বীজতলায় চারার বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় সেগুলোও নষ্টের পথে। এভাবে চলতে থাকলে আমনের চারারও সংকট দেখা দেবে।পঞ্চগড়
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল মতিন বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ধানে সেচ দিতে কৃষককে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেচ দিতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে।তিরনই হাট ইউপির কৃষক রফিকুল ইসলাম ও জামাল উ্দ্দিন বলেন
আষাঢ় শেষ হয়ে শ্রাবণ মাসেরও এক সপ্তাহ চলে গেছে, তবুও তেতুলিয়া মৌসুমি বৃষ্টির দেখা নেই। অথচ মাঝেমধ্যে সামান্য ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হলেও তা তেমন কোনো কাজে আসছে না। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন রোপা আমন চাষিরা।
এবার দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির কারণে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে পানির অভাবে অনেক কৃষক ধান রোপণ করতে পারছেন না। অন্যদিকে বৃষ্টির অভাবে কিছু জমিতে সদ্য রোপণ করা আউশ ধানের ক্ষেত নিয়েও বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। আমন চাষিদের সেচ পাম্পের পানিই এখন একমাত্র ভরসা। এতে এ জেলার কৃষকদের আমন ধান চাষের খরচ অনেক গুণ বেড়ে গেছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে জেলা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম পঞ্চগড় জেলায় ঠিকমতো মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয় না। যার প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন ফসলের ওপর।
প্রয়োজনীয় বৃষ্টির অভাবে রোপা আমন চাষ তো দূরের কথা, অনেক কৃষক এখনও বীজতলা তৈরি করতে পারেননি। উপজেলার গোলাবাড়ি
কৃষক হবিবর রহমান বলেন, ‘এই অঞ্চলের কৃষকরা আষাঢ়ের ১৫ তারিখের পর ও শ্রাবণের ১৫ তারিখের মধ্যে আমন ধানের চারা রোপণ করেন। এখন শ্রাবণ মাসের প্রথম সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও আমরা পানির অভাবে চারা লাগাতে পারছি না।’
তেতুলিয়া বিপর্যয় তেতুলিয়া চাষাবাদে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তেতুলিয়া উপজেলার দেবনগর এলাকার কৃষক সোলাইমান তিন বিঘা জমিতে আমন ধান চাষাবাদ করার জন্য জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না পানির অভাবে। আমন ধানের চাষাবাদের ভরা মৌসুম শুরু হলেও বৃষ্টির দেখা নেই। অগত্যা সেচ দিয়ে আমন চাষাবাদে বাধ্য হতে হচ্ছে। এ জন্য বাড়তি খরচ গুনতে হবে বিঘাপ্রতি দেড় হাজার টাকা। ফলে বোরোতে লোকসানের পর আমনেও লোকসান গুনতে হবে তাঁকে।
স্থানীয় তেতুলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, এবার খরার কবলে পড়ে আমন চাষাবাদ ব্যাহত হতে চলেছে। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকদের বাড়তি সেচ দিয়ে আমন চাষাবাদ করতে হচ্ছে। এতে আমন চাষাবাদে লাভ এবার কম হবে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি বছর এ সময় পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক জমিতে আমন চাষ শেষ হয়ে যায়। অথচ এবার
পঞ্চগড় জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর বিপরীতে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৪ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এসব জমিতে চাষাবাদ হয়েছে মূলত সেচের পানি দিয়ে। এদিকে জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ৫ হাজার ৫শত ৮টি গভীর ও অগভীর নলকূপ প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত এসব নলকূল চালাতে গিয়ে সেচ বাবদ প্রায় ২১০ কোটি টাকা বাড়তি খরচ হবে










