চুয়াডাঙ্গায় এনসিপির জুলাই পদযাত্রা : রাজপথে শপথ, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের ঘোষণা

মোঃ আব্দুল্লাহ হক:“নেতার কাছে নয়, এবার নেতা আসছে আপনার কাছে”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা আজ চুয়াডাঙ্গা জেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই শহীদ হাসান চত্বরে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনতা ও এনসিপি নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে রাজপথ মুখর হয়ে ওঠে।এই পদযাত্রায় অংশ নেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট শাকিল আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, সদস্য সোহেল রানা, সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী এবং যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মুজাহিদুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।শহীদ হাসান চত্বরে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “১৯৭১ সালে মুজিবনগর থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়েছিল, আজ আবার এই জনপদ থেকেই আমরা বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ঘোষণা করবো। মুজিববাদী সংবিধানের মাধ্যমে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ধ্বংস করা হয়েছিল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আজও জনগণের পক্ষে কাজ করে না। আমরা চাই একটি নতুন শাসনব্যবস্থা, যেখানে জনগণই হবে ক্ষমতার উৎস।”তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনার বিচার ও সংস্কার ছাড়া দেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। যারা নির্বাচন পেছাতে চায়, তারা বিচার ও সংস্কারও চায় না। অথচ এখনই দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার ও সংস্কার নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।”সকাল ১১টায় হাটবোয়ালিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত পথসভায় শত শত মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টায় এনসিপি নেতৃবৃন্দ আলমডাঙ্গার আল-তায়েবা মোড়ে সংক্ষিপ্ত পথসভায় অংশ নেন, যেখানে বিপুল সংখ্যক জনতা অংশ নেয়। দুপুর ২টায় চুয়াডাঙ্গা চৌরাস্তা মোড় ও শহীদ হাসান চত্বরে অনুষ্ঠিত জনসভা জনজোয়ারে পরিণত হয়। এতে স্থানীয় মানুষ এবং আশপাশের এলাকার শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করে।এই জনসভায় নাহিদ হাসান বলেন, “চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফ বারবার নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা করছে। দুই শতাধিক মানুষ সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছেন। সীমান্ত হত্যা আর মেনে নেওয়া হবে না। যারা দখলদার, তাদের বয়কট করুন। চুয়াডাঙ্গার শিক্ষা ও উন্নয়নে জাতীয় নাগরিক পার্টি আপনাদের সাথে আছে এবং থাকবে।”এসময় সারজিস আলম বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমাদের লড়াই চলবে। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া আন্দোলন থেমে যাবে না। জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি না হওয়া পর্যন্ত দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। এনসিপির মাধ্যমেই বাংলাদেশকে সুখী, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জনতার এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, এনসিপির নতুন রাজনীতির বার্তা সাধারণ মানুষের মাঝে গভীরভাবে পৌঁছে গেছে। সমাবেশ শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও জীবননগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানেও পথসভা করার কথা রয়েছে। এরপর তারা ঝিনাইদহ জেলার পথে যাত্রা করবেন বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031