
তৌহিদ, মাগুরা:
মাগুরার মোহাম্মদপুরে দুদিন আগে নিখোঁজ হওয়া সৌখিন খানের লাশ ৩৩ ঘন্টা পর শুক্রবার ২৭ জুন সকাল ৭ টার সময় মধুমতি ব্রীজের তিন কিলোমিটার দক্ষিণে পাঁচুড়িয়া ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে ভেসে থাকা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করছে স্বজনেরা।পরবর্তীতে মহম্মদপুর থানা পুলিশ লাশটি হেফাজতে নেয় এবং সুরোত হাল প্রস্তুত করে স্বজনদের উপস্থিতিতে মাগুরায় ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।এদিকে নিহতের স্বজনেরা মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করায় সেখানে নিহত সৌখিনের মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুয়ায়ী জানা যায় গত পরশুদিন রাতে মধুমতি নদীতে মাছ ধরার সময় সৌখিন (৩৫) নামের এক জেলের উপর হামলা করা হয়েছে। হামলা করে তাকে মেরে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। সৌখিন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা চরপাড়া গ্রামের সত্তার খাঁনের ছেলে। বৃহস্পতিবার মহম্মদপুর উপজেলা ও বোয়ালমারি উপজেলার সীমান্তবর্তী চন্ডিবিলের এলাকার মাঝ নদীতে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা হলেন, মধুখালি উপজেলার নওপাড়া গ্রামের মৃত হাজী সোলেমানের ছেলে জব্বার (৩২) এবং একই গ্রামের মাসুদ মোল্যার ছেলে হুমায়ন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সৌখিন গভীর রাতে মধুমতি নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। মাছ ধরতে ধরতে মাগুরা ও ফরিদপুর মধুখালীর সীমান্তবর্তী মধুমতি নদীর চন্ডী বিলের ঘাট নামক ব্যারাক অফিসের সামনে পৌঁছলে এমন সময় আরেকটি নৌকায় জব্বার (৩২) ও অন্য সহযোগী দুই যুবক এসে তাকে গালাগালি ও হুমকি দেওয়া শুরু করে। তাকে বলে তুই নদীতে বিষ দিয়ে মাছ ধরছিস এই বলে নৌকার বৈঠা দিয়ে তাকে পিটাতে শুরু করে। এক পর্যায় তার মাথায় কয়েকটি আঘাত লাগলে পানিতে পড়ে যান। এরপর থেকে জেলে সৌখিন নিখোঁজ রয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে মাগুরা ও ফরিদপুর জেলার লোকজন এবং মধুখালী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরিদল খোঁজাখুজি করেও তাকে উদ্ধার করতে পারে নাই।
মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন জেলে সৌখিনের লাশ আজ শুক্রবার ২৭ জুন সকাল সাতটার দিকে উদ্ধার করা হয়েছে। সুরোত হাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য মাগুরা পাঠানো হয়েছে।তবে যেহেতু ঘটনাটি মধুখালি থানার অন্তর্ভুক্ত এলাকায় হয়েছে সেহেতু মামলার বিষয়ে সবকিছুই মধুখালি থানা পুলিশ তদন্ত করছে।










