
মোঃ আব্দুর রহমান (হেলাল), ভোলা জেলা প্রতিনিধি: ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেত্রী ও অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতার নিখোঁজের চার দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে মেঘনা নদী থেকে। গত ১৭ জুন কর্ণফুলী-৪ লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। চার দিন পর ২১ জুন রাতে লক্ষ্মীপুর জেলার মেঘনা নদীতে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নৌ পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় ২২ জুন সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়। পরে ভোলা সদর মডেল থানায় ইপ্সিতার বাবা মাসুদ রানা কর্তৃক করা নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে পুলিশ তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ছবির ভিত্তিতে ইপ্সিতার বাবা নিশ্চিত করেন, এটি তার মেয়ে সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতার মরদেহ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৭ জুন সকালে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে বাসা থেকে বের হন ইপ্সিতা। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ মেলেনি। ঘটনায় পরদিন ইপ্সিতার বাবা ভোলা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
ঘটনার দিন কর্ণফুলী-৪ লঞ্চের সুপারভাইজার নান্টু বাবু জানান, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে লঞ্চটি ভোলার ইলিশা ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কালিগঞ্জ ঘাট অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পর তিনি জানতে পারেন, তৃতীয় তলা থেকে এক তরুণী নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। লঞ্চ ঘুরিয়ে নদীতে অনুসন্ধান চালিয়ে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে কোস্টগার্ডকে জানিয়ে লঞ্চটি পুনরায় ঢাকার পথে রওনা হয়।
ঘটনার সময় লঞ্চে থাকা আরেক নারী যাত্রী ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে অভিযোগ করেন, ঝাঁপ দেওয়া তরুণী লঞ্চে ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এরপর মুন্সিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে লঞ্চ থেকে দুই স্টাফ ও অভিযোগকারীকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়।
তবে ইপ্সিতার মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন এটি আত্মহত্যা, আবার কেউ অভিযোগ করছেন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে বিতর্ক চলছে। ইপ্সিতার পরিবার কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ না আনলেও তারা দাবি করছেন, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে।
সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতা ছিলেন ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী এবং আসন্ন কাউন্সিলের নেতৃত্বে সম্ভাব্য প্রার্থী। তার রহস্যজনক মৃত্যুতে শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সহপাঠী, পরিবার এবং রাজনৈতিক সহকর্মীরা।
পরিবার ও ছাত্রদলের দাবি:
এই মৃত্যু আত্মহত্যা না পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া জরুরি। জনমনে দেখা দেওয়া প্রশ্ন ও সন্দেহের সুষ্ঠু সমাধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।










