গল টেস্টে ড্র পার্ফমেন্সে সন্তুষ্ট দুদল

গল টেস্টে ড্র পার্ফমেন্সে সন্তুষ্ট দুদল। সমর্থকরা নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরির পরই হয়তো ফলটা অনুমান করতে পারছিলেন। দিনের খেলা বাকি ৩৭ ওভার, শ্রীলঙ্কার সামনে টার্গেট ২৯৬ রানের। ড্র ছাড়া আর কীই-বা সম্ভব! এমন যারা ভেবেছিলেন, তাদের অনুমান সত্যি। ড্র হয়েছে গল টেস্টে।
৫ ওভার বাকি থাকতে দুদল ড্র মেনে নিয়েছে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭২ রান তুলেছিল স্বাগতিক দল, এরইমধ্যে পড়েছে ৪ উইকেট। শুরুর দিকে লঙ্কান দুই ওপেনারই লক্ষ্য যাওয়ার একটা তাড়না দেখান। ফলস্বরূপ গলের টার্নি পিচে ৬.২ ওভারের মধ্যেই ৩৪ রানে পড়ে দুই উইকেট।  লাহিরু উদারা ৯ ও পাথুম নিসাঙ্কা করেন ২৪ রান। এরপরই রক্ষণাত্মক ঢংয়ে খেলা শুরু করে তারা। তাও ৮ রানে বিদায়ী টেস্ট খেলতে নামা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও ৬ রান করা দিনেশ চান্দিমালের উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। কামিন্দু মেন্ডিস ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা দুজনই অপরাজিত ছিলেন ১২ রানে।

গলে টেস্ট ড্র হয়ই না বলতে গেলে। আগের ২৬ টেস্টেই কোনো না কোনো দল জয় তুলে নিয়েছে। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার এই টেস্টে তা হলো না। অবাক করা বিষয় হলো, ২৬ টেস্টের আগের ড্রটাও এই দুদলের।
নাজমুল হোসেন সেঞ্চুরির পর ৬ উইকেটে ২৮৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। এই ইনিংসের ভীতটা দাঁড় করে দিয়ে গিয়েছিলেন সাদমান ইসলাম। ওপেনিংয়ে নেমে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে দুই টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ১৪৮ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে করলেন ১২৫*।

শান্ত ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টেও দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। বাংলাদেশিদের মধ্যে এছাড়া একই টেস্টের উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করার নজির আছে আর একজনের—২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের দুই ইনিংসে যথাক্রমে ১৭৬ ও ১০৬* রান করেছিলেন মুমিনুল হক।
শান্তর পরে নামা মুশফিকুর রহিম আউট হন হাফসেঞ্চুরি থেকে ১ রান দূরে থাকতে। বাকিদের মধ্যে মুমিনুল হক ১৪, এনামুল হক ৪, লিটন দাস ৩ ও জাকের আলী ২ রান করেন। শ্রীলঙ্কার হয়ে দুই হাতে বল করা থারিন্দু রাতনায়াকে নেন ৩ উইকেট।

শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের (১৬৩) সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৪৯৫ রান। জবাব দিতে নামা শ্রীলঙ্কা নাঈমের ঘূর্ণিতে ৪৮৫ রানে অলআউট হন। পাথুম নিসাঙ্কা করেন ১৮৭ রান। নাঈম ১২১ রানে নেন ৫ উইকেট।

সর্বশেষ খবর