নওগাঁয় থানা হেফাজতে থাকা ট্রাংক ভেঙে এইচএসসি প্রশ্নপত্র ফাঁস

মোঃ রমজান হোসেন মহাদেবপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানায় রক্ষিত একটি বাক্সের তালা ভেঙে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বের করা হয়েছে। তা ছড়িয়ে পড়েছে, কিংবা গোপনে ফাঁস করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। ঘটনার সঠিক তদন্তে জেলা প্রশাসন তিন সদস্য বিশিষ্ট ও জেলা পুলিশ তিন সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে কমিটিগুলোকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ জুন) দুপুরে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এ বিষয়টি জানিয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রশ্নপত্রের একটি ট্রাঙ্ক থানায় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আসে। ট্রাঙ্কটি থানার একটি হাজতখানায় রাখা হয়। বৃহস্পতিবার ১৯ জুন) সকালে উপজেলা পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা প্রশ্নপত্রের বাক্স পরিদর্শনে গেলে ঘটনাটি ধরা পড়ে।

এ বিষয়ে উপজেলা পরীক্ষা কমিটির সদস্য ও ধামইরহাট সরকারি এমএম ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই ট্রাঙ্কে ধামইরহাট সরকারি এমএম ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ইতিহাস দ্বিতীয় পত্রের ৭০ মার্কের লিখিত পরীক্ষার ৫০ সেট প্রশ্নপত্র ছিল। বৃহস্পতিবার থানায় গিয়ে দেখা যায়, ট্রাঙ্কের তালা খোলা। ট্রাঙ্কের ভেতর থেকে প্রশ্নপত্র বের করা হয়েছে। এছাড়া বাইরে দু‘টি প্রশ্নপত্র ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া যায়।

বাক্স ভেঙে প্রশ্নপত্র বের করা হলেও তা বাইরে ছড়িয়ে পড়েনি বলে দাবি করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার সাফিউল সারোয়ার।

পুলিশ সুপার বলেন, থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন তারা। অন্যদিকে দ্বায়িত্বে অবহেলার দায়ে ইতোমধ্যে ধামইরহাট থানার একজন সাব ইন্সপেক্টর ও একজন কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তাদের নাম- পরিচয় তিনি নিশ্চিত করেননি।

এসপি জানান, ঘটনা তদন্তে পত্নীতলা পুলিশ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তদন্ত করছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদেরকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম বলেন, যিনি হাজতখানায় রাখা ট্রাঙ্ক থেকে প্রশ্নপত্র বের করেছেন, তাকে সামান্য সময়ের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে থানায় আনা হয়েছিল। তবে তদন্তের স্বার্থে সেই ব্যক্তির পরিচয় জানানো হচ্ছে না।

অন্যদিকে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাদিয়া আফরিনকে প্রধান করে পৃথক আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটি ঘটনা তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাদিয়া আফরিন বলেন, তদন্তের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্রগুলো সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে গাফলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছে কিনা, তা এখনও জানা যায়নি। শনিবার ধামইরহাট থানায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনা তদন্তে যাবেন বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031