কানাইপুর জুট মিলের দুই নারী শ্রমিককে ভারতের যৌনপল্লীতে বিক্রির দায়ে দুই সহকর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড

মোঃ ইলিয়াছ খান  : ফরিদপুরের পাট কলের এক নারী শ্রমিককে ভারতে পাচার করে যৌনপল্লীতে বিক্রির দায় দুই সহকর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে প্রতারককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আজ বুধবার ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। সাদা প্রাপ্ত দুইজন হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বৈশাখালী গ্রামের মাকসুদা বিবি ও আটিরোপর বৈশাখালী গ্রামের মাকসুদা বিবি ও আটিরোপর এলাকায় মর্জিনা ওরফে সোনালী। তারা কলার তো রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলার ভাজি ও তার দুই মেয়ে ফরিদপুরের কানাইপুর করিম জুট মিলে শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন। তাদের সহকর্মী ছিলেন মাকসুদা। সবাই একই বাড়িতে বারা থাকতেন বলে তাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সুবাদে মাকসুদা শ্যামনগরে তার গ্রামের বাড়িতে এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও সুন্দরবন ঘুরে দেখানোর কথা বলে (২০১২) সালের ৮ মে বাজির বড় মেয়ের কে (২২) নিয়ে যান। পরে ওই তরুণীকে ভারতের পাচারকারীর চক্রের হাতে তুলে দেয়া হয়। এরপর তার মায়ের কাছে একটি ভারতীয় নাম্বার থেকে ফোন আসে এবং জানানো হয়, তার মেয়েকে কলকাতায় একটি পতিতা পল্লীতে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। একেই বছরের ১৮ মে, কলকাতা পুলিশ ওই যৌনপল্লীতে অভিযান চালিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী পরিষদের মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে আনা হয়।

এ ঘটনায় ওই বছরের ২৯ মে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। পরে ২০২৩ সালের ১৪ ই ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন সাংবাদিকদের বলেন মামলাটি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হয় আদালত দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এ রায় এর মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে কেউ মানব পাচারের মতো অপরাধ করে পার পাবে না তাকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031