গোমস্তাপুরে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ১১ নারী, ওসি ও এসআই প্রত্যাহার
Spread the love

মোঃ রনি রজব : ধান কাটার মেশিন দেখতে জড়ো হলে পুলিশ সদস্যরা নারীদের লাঠি চার্জ করে। অত্যাধুনিক মেশিন (কম্বাইন হারভেস্টার) দ্বারা ধান কাটা হচ্ছে। এলাকায় প্রথম এমন ঘটনা ঘটছে। মেশিনের সাহায্যে কাটা হচ্ছে বিঘার পর বিঘা জমির ধান। এমন খবর পেয়ে সেই ধান কাটার মেশিন দেখতে ছুটে যান নারীরা। কিন্তু ধান কা*টা*র মেশিন দেখতে গিয়ে সেখানে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন নারীরা। এতে ১১ নারী গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসা নেন হাসপাতালে। এ ঘটনায় গেল মাসে এসআই আজিম আলীকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। একই ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার প্রত্যাহার করে দুপুর ১২টার মধ্যে রাজশাহী রিজার্ভ ফোর্সে যোগদান করতে গোমস্তাপুর থানার ওসি রইস উদ্দিনকে নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু লা* লাঠিচার্জ নয়, ঘটনাস্থলে পুলিশের পক্ষ থেকে ছোড়া হয় রাবার বুলেট। অভিযোগ রয়েছে, গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইস উদ্দীনের উপস্থিতিতে ও নির্দেশে এই লাঠিচার্জে নেতৃত্ব দেন একই থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আজিম। স্থানীয়রা জানান, কায়েমপুর ইউনিয়নের জগদিসপুর মৌজায় ৩০-৪০ জনের ১৮০ বিঘা জমি রয়েছে। তবে এসব জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলে আসছে স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বেগপুর গ্রামের আজগর আলীসহ কয়েকজন ব্যক্তির। গত ১ মে সকালে এসব জমিতে যন্ত্র দিয়ে ধান কাটছিলেন। এ সময় এলাকায় নারীরা যন্ত্র দিয়ে কীভাবে ধান কা*টা হচ্ছে তা দেখতে গিয়েছিলেন। এতেই বাধে বিপত্তি। পুলিশ ধান কাটা বন্ধ করতে গিয়ে নারীদের ওপর চালায় অমানবিক নির্যাতন। এতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ১১ জন নারী। শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা বইফুল বেগম বলেন, ‘সকালে জানতে পারি এলাকায় যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা হবে। সকালের সব কাজ শেষ করে বের হয়েছিলাম যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা দেখতে। কিন্তু অর্ধেক রাস্তা যাওয়ার পরে হঠাৎ কয়েকটি পুলিশের গাড়ি এসে আমাদের আটকে দেয়। আমরা নাকি ধান কাটতে গিয়েছি এমন অভিযোগ তুলে আমাদের মারধর শুরু করে পুলিশ। এমনকি গুলিও চালানো হয় আমাদের লক্ষ করে। এ সময় আমার পায়ে আঘাত লাগে। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চার দিন ভর্তি ছিলাম। গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইস উদ্দিন লাঠিচার্জের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘কায়েমপুর ইউনিয়নের জগদিসপুর মোজায় ১৮০ বিঘা জমি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা চলছিল অনেক আগে থেকে। পরে আদালতে মামলা করে জমির মালিকানা পেয়েছেন রফিকুল ইসলামের পক্ষ। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা করেছেন আজগর আলীর পক্ষের লোকজন। গত ১ মে এসব ধান কাটছিল রফিকুল ইসলামের কিছু লোক। বিষয়টি জানতে পেরে ধান কাটা বন্ধের জন্য ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। কিন্তু সরকারি কাজে বাধা দেন স্থানীয় কয়েকজন নারী। তাই তাঁদের শুধু ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। কাউকে মারধর করা হয়নি।’ চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ   বলেন, ‘ধান কা-টা নিয়ে নারীদের পুলিশের পুরুষ সদস্যরা লাঠিচার্জ করেছে এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। সেখানে জমিজমা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। একাধিক মামলাও হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে।’ ওসি রইস উদ্দিন ও এসআই আজিম আলীকে পুলিশ লাইনে ক্লোজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথাটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘এত দিনের রেশ এখন পর্যন্ত কেন থাকবে। তাদের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছে। আর পুলিশের পুরুষ সদস্য হয়ে নারীদের লাঠিচার্জের কোনো সুযোগ নেই।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31