
মোঃ নুরুজ্জামান খোকন কাউখালী।১৬ জুন(সোমবার) সকাল ১১ ঘটিকার সময়, পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সংস্কারকৃত পুরনো হাসপাতালের আবাসিক টিনশেড ভবনটির প্রবেশ পথ থেকে সদর রাস্তা পর্যন্ত রুগীদের চলাচলের সুবিধায়,একটি পাঁকা ঢালাই রাস্তা নির্মান কাজের উদ্ভোধন করেনউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বজল মোল্লা।এ সময় তিনি বলেন,রাস্তাটি তৈরি হওয়ায় মুমূর্ষ রোগী ও স্বজনরা এখন থেকে সরাসরি গাড়ি নিয়ে হসপিটালে প্রবেশ করতে পারবে। কাউখালীতে হাসপাতালের ভবন না থাকায় এলাকাবাসীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।তাই আমি চেষ্টা করেছি বিভিন্ন ফান্ড থেকে টাকা সংগ্রহ করে পুরাতন রুমগুলিকে ব্যবহারের যোগ্য(সংস্কার)করে এই উপজেলাবাসীকে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করার। এ সময় তার সাথে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইশতিয়াক আহমেদ এবং কাউখালী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।উল্লেখ্য এই উপজেলাবাসীর চিকিৎসা সেবার একমাত্র আশ্রয়স্থল ৩১ শয্যা বিশিষ্ট কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নতি করনের লক্ষ্যে পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবনের পুনঃনির্মান কাজটি মামলা এবং ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে দীর্ঘ ২০০৮ সাল থেকে বন্ধ থাকার কারণে উপজেলা বাসীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ মানবিক দৃষ্টিকোণে হাসপাতালের চিকিৎসকের আবাসিক ভবনসহ পুরনো জরাজীর্ণ ভবনে রোগীদেরকে চিকিৎসা সেবার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।কিন্তু সীমিত জায়গা এবং রোগীদের উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে কাঙ্খিত সেবা দিতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন,সেই সাথে রোগীরাও হতাশ হয়ে বিভিন্ন দিকে চিকিৎসার জন্য প্রাণপণ ছুটছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বজল মোল্লার নজরে আসলে তিনি একান্ত ব্যক্তিগত উদ্দ্যেগে হাসপাতালের পুরনো আবাসিক ভবন সংস্কার এবং সেইসাথে আবাসিক ভবনের পশ্চিম পাশের টিনসেট ভবনটিকে দ্বিতীয় তলায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কাজ শুরু করেন বলে জানা যায়।উল্লেখ্য গত ৩ই জুন (মঙ্গলবার) প্রাকৃতিক ঘূর্ণিঝড় টর্নেডোর আঘাতে টিনসেট ভবনটির পশ্চিমাংশের একাংশ ভবনটির পাশে থাকা একটি চাম্বল গাছ উপড়ে পড়ে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উক্ত স্থানে চিকিৎসাধীন থাকা ও রোগীরাও আহত হওয়ায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বজল মোল্লা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত হাসপাতাল সংস্কার এবং সেই সাথে হাসপাতালের পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ এর সিদ্ধান্ত নেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বজল মোল্লার সাথে এ উন্নয়ন কর্মকান্ডে সার্বিক সহযোগিতা করেন কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইশতিয়াক আহম্মেদ,যিনি ইতিমধ্যে কাউখালীতে যোগদান করে তার কর্মপরিকল্পনা দিয়ে রোগী,রোগীর স্বজন, এলাকাবাসী এবং স্টাফদের শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে উঠেছেন।এ প্রতিবেদন লেখার পূর্ব মুহূর্তে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে,হাসপাতালের পশ্চিম পাশের টিনসেট দ্বিতল ভবনটি (সংস্কারকৃত) চিকিৎসা সেবার উপযোগী হয়ে গিয়েছে,চারিদিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেখলে মনে হবে যেন এটি একটি কোন ব্যক্তিগত ক্লিনিক তৈরী করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বজল মোল্লা। তিনি দেখিয়েছেন সদিচ্ছা থাকলেই অত্যান্ত স্বল্প পরিসরেও সৌন্দর্য বর্ধন সহ সুন্দরভাবে কাজ করা যায়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতেও দেখা যায়। একপর্যায়ে রোগী ও রোগীর স্বজনরা এধরণের চিকিৎসার সুন্দর পরিবেশ তৈরি করার জন্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বজল মোল্লা কে অভিনন্দন জানান এবং সেই সাথে কাউখালীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৫০(পঞ্চাশ) শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি পুনঃনির্মাণেরও দাবী জানান।










