কালীগঞ্জে সেতুর স্বপ্ন পূরণ হয়নি এলাকাবাসীর:

কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ)থেকে :: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের তৈলকূপ গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত বেগবতি নদী। এই নদীর উপর একটি সেতুর অভাবে ভাঙ্গাচুরা বাঁশের সাঁকো দিয়েই পারাপার হতে হয় ৪ ইউনিয়নের অন্তত ৫ গ্রামের মানুষের। কালীগঞ্জ শহরসহ অনান্য এলাকায় আসা যাওয়া করার জন্য এই বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা। ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিদের বারবার প্রতিশ্রতিতে দিলেও বাস্তবে আজো পূরণ হয়নি তাদের সে সেতুর স্বপ্ন। স্থানীয়দের দুর্ভোগের দিন যেন শেষ হবার নয়। তবুও আশায় বুক বেঁধে আছেন তারা। দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ হলে ভুক্তভোগীদের দুঃখ ঘুচবে এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন বয়সের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, চরম দূর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হাজার হাজার মানুষ নদী পারাপারের জন্য একমাত্র ভরসা বাঁশের সাকো। আবার এ সাকো নির্মাণের ছয় মাস যেতে না যেতেই তা নদীর পানির তোড়ে ভেঙ্গে যায়। ডোঙ্গায় পারাপার হতে গিয়ে অনেকেই নদীর পানিতে পড়ে গিয়ে আহত হতে হয়। স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের বই পুস্তক নিয়ে নদী পারাপার হতে গিয়ে অনেকেই নদীতে পড়ে যায়। ফলে তাদের বই খাতা ভিজে যাওয়ায় স্কুল ও মাদ্রাসায় যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। এদিকে, অএ এলাকার, অনেকেই ক্ষোভ নিয়ে জানান, নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা এ নদীর উপর দিয়ে চলাচলরত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য সেতু নির্মানের প্রতিশ্রুতি দেন।সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান আহম্দে জানান,
প্রতিদিন বেগবতি নদীর ওপর তৈরি এই দূর্বল বাঁশের সাঁকো দিয়ে আতংকিত ভাবে পারাপার হতে হয়। মনে সব সময় ভয় কাজ করে কখন যেন ভেঙে পড়ি পানিতে। তবুও উপায় না থাকায় এদিক দিয়েই যাতায়াত করি। ডিজিটাল যুগেও বাঁশের সাঁকো এটি বড়ই বেমানান প্রথা। তৈলকূপী গ্রামের কাশেম জানান, বাঁশের সাঁকো ভেঙে মাঝে মধ্যেই মানুষ আহত হন। আজ থেকে ২৫ বছর আগে আমার শ্যালক অল্প কিছু কৃষি পন্য নিয়ে উপজেলা শহর কালীগঞ্জে যাওয়ার জন্য এই সাঁকো ভেঙে তিনি নিচে পড়ে যান এবং সাকোঁর বাঁশে লেগে তার এক চোখে মারাত্বক আঘাত প্রাপ্ত হয়। পরে বিভিন্ন ডাক্তার দেখিয়ে তার চোখ ভালো হয়নি। পরে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। আজ থেকে ৪ বছর আগে আমার স্ত্রী অসূস্থজনিত কারণে ষ্ট্রোক করে তাকে দ্রত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সাকোঁর উপর দিয়ে যাওয়ার সময় সাঁকো ভেঙে নিচে নদীর পানিতে পড়ে যায়। সেখান থেকে তুলে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন। এই তো কিছুদিন আগেও সাইকেল নিয়ে পার হতে গিয়ে শমসের আলী নামের একজন সাইকেল সহ পানিতে পড়ে যায়। স্থানিয়রা ছুটে গিয়ে তাকে আহতবস্থায় উদ্ধার করে। দীর্ঘ ৫৩ বছর ধরে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছি। নিহত ও আহত হলেও কারোরই টনক নড়েনা। তৈলকূপ,গ্রামের নদী পাড়ের নুরজাহান বেগম জানান, বর্ষার সময় তালের ডোঙ্গা দিয়ে পার হতে হয়। পানি কমে গেলে বাঁশের সাঁকো। জরুরি চিকিৎসা নিতে শহরে গেলে এখানে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আমাদের দুর্দশা ঘুচাতে সরকারি সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কলেজ ছাত্রী জানান, আমরা স্বপ্ন দেখি একটি সেতুর কিন্তু তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।। জানি না এ স্বপ্ন বাস্তবে কোনদিন রূপ নিবে কী-না। কারণ এখানে বছরের ৬ মাস পানি থাকে এবং বাকী ৬ মাস বাঁশের সাঁকোতে পারাপার হতে হয়।অর্থাৎ বছরের কার্তিক মাসে তৈরি করা হয় বাঁশের সাকো। বছরের পর বছর ধরে এরকম দূর্ভোগ ও ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শত শত  মানুষকে।এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান,তিনি প্রতিদিন ঐ ভাঙ্গাচোরা বাশেঁর সাকোঁ দিয়ে পার হয়ে নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বারোপাখিয়া মসজিদের মোড়ে এসে তাকে ইজি বাইক, ভ্যান অথবা লাটা হাম্বারে চড়ে কালীগঞ্জ শহরে পৌছায়, তিনি বলেন, এ নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা বর্ষার সময় তালের নৌকা (ডোঙ্গা) আর এখন একটি বাঁশের সাকোঁ। তাও আবার বর্ষা আসলেই নদীর পানির স্রোতে ভেসে যায়, ফলে বছরের ছয় মাস সাকো দিয়ে এবং বাকি ছয় মাস ডোঙ্গা দিয়ে এ নদী পারাপর হতে হয় তিন ইউনিয়নের কয়েক গ্রামের শত শত মানুষকে। এতে চরমভোগান্তি আর দুর্ভোগ পোহাতে হয় ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের। স্কুল শিক্ষক,বলেন, এই গ্রামের মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে জেলা ও উপজেলা শহরে যায়, তারা সারা জীবনই এই দূর্ভোগ সঙ্গে নিয়ে তাদের চলতে হয়। তাছাড়া নদীরওপারে বারোপাখিয়া মাদ্রাসা এবং নরেন্দ্রপুর ঘোষনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীরা এই সাকো দিয়েই তাদের পারাপার হতে হয়। তারাও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দূর্ভোগে পড়তে হয়। কোন কারণে যদি এখানে সেতু নির্মান করা সম্ভব না হয় তাহলে গোয়ালবাড়ি ঘাটে সেতু নির্মান করা হলেও—আমাদের সমস্যা সমাধান হবে। আমাদের অনেক সরকার প্রতিনিধি প্রতিশ্রতি দিয়েছেন কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। নদির উপর একটি সেতু নির্মাণ হলে দুই পারের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সৈয়দ শাহরিয়ার আকাশ বলেন, তৈলকূপী গ্রাম এবং রাজবাড়ির পাশে যে পুরাতন সেতুটি আছে সেখানে আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখে নতুন করে একটি সেতু নির্মানের জন্য টেন্ডার দিবো কিন্তু দু’পাড়ের বসতিরা জায়গা দিচ্ছে না এজন্য টেন্ডার করাতে পারছিনা। সেতুটির ডিজাইন আছে ১৮ ফুট, সেখানে আমার জায়গা লাগবে ২৪ ফুট। কিন্তু নদির ওপারে দুই পাকা বাড়ি আছে তারা জায়গা দিচ্ছেন না। এ কারনে সেখানে সেতুর নির্মাণ করার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ খবর