
সাকিব আহসান : হরিশংকর জলদাসের ‘রামগোলাম’ হল পীরগঞ্জের আদিবাসী, কিছু বেসরকারি সংস্থা ( এনজিও) তাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছে। নগর পুড়ছে কি,দেবালয় ধসছে -এর বিন্দুমাত্র আভা তাদের ছুঁতে পারে না কারণ বাণিজ্য ও রাজনীতির মিশ্রণে যে দাহ্য দেয়াল তৈরি হয় তা দূর্ভেদ্য। রাজনীতির কাঠামোয় দৌর্বল্য দেখা দিলে ‘ক্রোনিক্যাপিটালিজম’ ( ক্ষমতায় থাকা রাজনীতিকের পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে ওঠা ব্যাপারি) অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামলে নেন। বাজারদর নির্ভর করে রাজনৈতিক সুবিধাপ্রসন্ন গোষ্ঠীর উপর। চাপ পড়ে বুর্জোয়াদের উপর। ফরাসি বুর্জোয়ারা ক্ষমতা রাখতেন। একবিংশের বুর্জোয়ারা অধিকাংশই চাকরিজীবী এবং নগরায়নের স্রোতে ভেসে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শহুরে হওয়ার করুণ প্রয়াস করে যাচ্ছেন। আবাদি জমির ক্রমাগত হ্রাস, যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় শহরে দুষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। জনঘনত্ব বেড়ে প্রসব করেছে অলিগলির ছিনতাই, চুরি,নিরাপত্তার অভাব। যেন একটা ‘সিভিল ওয়ারের ঢেঁকুর’। বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে বেড়ানো স্নাতকোত্তরেরা দু-ভাগে বিভক্ত। হতাশা নামক রোগ সাড়াতে মাদকের রস হতাশ রক্তকে শান্ত করছে। অপরদিকে, পিতার ধনের জোরে খামার,ব্যাবসা করে শিরদাঁড়া উঁচিয়ে রাখছেন কিছু স্নাতকোত্তর। তাদের আবার মাথাব্যথা নেই অবলম্বনহীন বেকার সমাজ নিয়ে। এরই মাঝে প্রায়শচিত্তের ক্যামোফ্লেজ(ছদ্দাবরণ) ধারণ করে ভিন্ন ভিন্ন ধার্মিক প্রতিষ্ঠান গড়ে সামাজিক মোড়ল হওয়ার প্রচেষ্টাও ব্যাপক দৃশ্যমান। নীতির কথা শুধু ওই মঞ্চে কিংবা কোনো মানববন্ধনে। বাস্তবে ঘুণে ধরা বাঁশ।










