
সিলেট প্রতিনিধি : তোফায়েল আহমদ
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার নুরপুরে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ সাধারণ মানুষ ও আত্মীয়স্বজনদের উপর নির্যাতন, জবরদখল এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে। পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাকির হোসেন ও তার সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় এসব অপকর্ম চালালেও রহস্যজনক কারণে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের একাধিক সহযোগী সংগঠনের নেতাদের আশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জাকির হোসেন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। এমনকি নিজের আপন চাচাতো ভাই ফয়সল আহমদ ও তার পরিবারও রেহাই পায়নি জাকিরের নির্যাতন থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায় জাকির ও তার সহযোগী গ্রুপ। প্রতিবাদ করায় ফয়সল আহমদের পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ফয়সল আহমদ বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন টুটুল গ্রুপের ছত্রছায়ায় থেকে জাকির হোসেন ও তার সহযোগীরা একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে ফয়সল আহমদ ও তার পরিবারকে হয়রানি করছে। এমনকি ৭০ বছর বয়সী বয়োবৃদ্ধ চাচী এবং দৃষ্টিহীন বোনকেও মামলায় আসামী করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, এসব মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উৎখাতের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ফয়সল আহমদের আইনজীবী জানান, সম্প্রতি আদালত পাড়ায়ও ফয়সলকে অনুসরণ করেছে জাকির হোসেনের লোকজন। এতে পরিস্থিতি আরও আতঙ্কজনক হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও মুরব্বিদের একাধিকবার আপোষ মীমাংসার প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে উল্টো আরও হুমকি-ধামকি চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বারবার প্রশাসনের নজরে আনার পরও জাকির হোসেন এবং তার সহযোগীরা থেকে যাচ্ছে আইনের বাইরে। তারা দাবি করেন, এই চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই পরিবার এবং এলাকাবাসী সন্ত্রাসী চক্রের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। অন্যদিকে অভিযুক্ত জাকির হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।










