কক্সবাজার ঈদগাঁওতে প্রশাসনের অভিযানে ১৫৫ টি অবৈধ পশু জব্দ

জামাল উদ্দীন : কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে অবৈধ উপায়ে আনা ১৫৫টি গরু- মহিষ জব্দ এবং একটি খাবার হোটেলকে বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৬ মে বিকাল তিনটায় চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে ঈদগাঁও গরুর বাজার সংলগ্ন আড়তে প্রথমে অভিযান চালানো হয়। যা পরিচালনা করেন কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সোলতানা। তিনি জব্দকৃত পশু গুলো ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাকিমের জিম্মায় দেন। জব্দকৃত পশুর মধ্যে ১৬ টি মহিষ এবং বাকিগুলো গরু বলে জানা গেছে। সহকারি কমিশনার (ভূমি) জানান, গরুর বাজার সংলগ্ন যে কয়েকটি আড়ত রয়েছে তা গরুর বাজারের নির্ধারিত আওতার অন্তর্ভূক্ত নয়। তাছাড়া যে পশুগুলো এসব আড়তে স্টক রাখা হয়েছে তার কোন বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তাই সেগুলোকে জব্দ করে লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ অভিযানের পরপর সহকারি কমিশনার (ভূমি) ঈদগাঁও বাজারের তিনটি খাবার হোটেল তদারকি অভিযানে যান। এ সময় এশিয়ান রেস্টুরেন্টের তৃতীয় তলায় রান্নাঘরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং ফ্রিজে বাসি খাবার রাখায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। হোটেলটি যৌথভাবে পরিচালনা করছেন আরাফাতুর রহমানসহ অন্যান্যরা। এছাড়া পুবাণী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এবং হোটেল নিউ স্টারে অভিযান চালালেও কোন ধরনের জরিমানা করা হয়নি। তবে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন সোলতানা। গরুর বাজারের আড়তে অভিযান কালে আরো উপস্থিত ছিলেন ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাকিম, ঈদগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, কক্সবাজার সদর উপজেলা ও ঈদগাঁও উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর জহর লাল পাল সহ সংশ্লিষ্টরা। ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানান, চোরাই পথে আনা বার্মিজ গরু- মহিষগুলো তার জিন্নায় দেয়া হয়েছে। এগুলোর কোন বৈধ কাগজপত্র পাননি সদর উপজেলার এসিল্যান্ড। ঈদগাঁও বাজারের ইজারাদার আব্দুর রহিম জানান, বেশ কয়েকদিন আগে গরুগুলো মজুদ করা হয়েছে। তিনি এসব গর- মহিষের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করেন। বলেন, বেশ কিছু গরু অকশনেরও রয়েছে। ঈদগাঁও বাজারের সাবেক ইজারাদার রমজানুল আলম কোম্পানির নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবার আমি গরুর বাজারের ইজারা নেইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অভিযানের বিষয়টি জেনেছি। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেজাউল করিম সিকদার জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।বিষয়টি তিনি অবহিত নন। ব্যবসায়ী নুরুল আমিনের নিকট তাদের আড়ত থেকে জব্দ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কোন আড়ত নেই। তবে আড়তের জন্য জায়গা ভাড়া দেয়া হয়েছে এমন হতে পারে।তিনি সৌদি আরবে অবস্থানরত তার বড় ভাই মোস্তাক আহমদ বিষয়টি জানাতে পারবেন বলে জানান। সৌদি আরবে অবস্থানরত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদ ফোনে জানান, তিনি মাসিক ৮০ হাজার টাকা মূল্য জনৈক শাহজাহানকে জায়গাটি ভাড়া দিয়েছেন। তার নিজস্ব কোন আড়ৎ নেই।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031