
মাসুদ চৌধুরী সাঈদ : পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে আনন্দ শোভযাত্রার জন্য যে ভাস্কর্য তৈরি করেছিল। পতিত স্বৈরাচার সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেহারায় মিল থাকায় আওয়ামী দোসরদের অগ্নিসংযোগে চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মানিকগঞ্জে চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়ি পরিদর্শনে আসেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ২৩ এপ্রিল বুধবার বেলা সাড়ে ১২ ঘটিকায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত ঘোষ বাড়ি পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, এ বছর মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করেছে। কারণ দেশে এখন আর ফ্যাসিবাদ নেই। সাধারণ মানুষ আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে নানা প্রতীক তৈরির মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করেছে। কিন্তু এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে, আমি মনে করি যিনি বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন, তার নির্দেশেই আওয়ামী লীগের দোসররা এই জঘন্যতম অগ্নিসংযোগ করেছে। তিনি আরো বলেন, যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যারা শিল্প-সাহিত্যের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখনও আওয়ামী দোসররা সক্রিয়। তাদের হাতে পেট্রোল, অস্ত্র, অর্থ সবই আছে। প্রশাসন এসব জানে, এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের রুখতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? রিজভী অভিযোগ করে বলেন, যারা ১৫ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করেছে, ব্যাংক খালি করেছে, তাদের অনেকে এখনও সমাজে ছদ্মবেশে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার যদি এই দোসরদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নেয়, তবে জনগণ এ সরকারকে ব্যর্থ বলবে। অন্তবর্তী সরকার আইনগত ভিত্তি না থাকলেও গণতন্ত্রকামী মানুষের সমর্থন পেয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তাদের দায়িত্ব নিতে হবে—আওয়ামী লীগ কীভাবে রাজনীতি করবে, তা নির্ধারণ করাও এই সরকারের কাজ। কারণ প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্র এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফসল, তাই তাদের প্রতিটি কাজে জবাবদিহিতা থাকতে হবে। বিশেষ করে মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরী। যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, বহুদলীয় রাজনীতির পক্ষে কথা বলেছে, তারা আজও হামলার শিকার হচ্ছে। মানবেন্দ্র ঘোষ শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার শিল্পকর্মের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন। এখনো অনেকেই যেকোনো সময় টার্গেট হতে পারেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সভাপতি আফরোজা খান রিতা, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আজাদ খান, গোলাম আবেদীন কায়সার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাইদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া হাবু, যুবদলের সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জিন্নাহ খান, ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম খান সজীবসহ বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।










