ময়মনসিংহে নববর্ষ উদযাপনে সাদামাটা প্রস্তুতি
Spread the love

আবুল কালাম আজাদ : রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। নতুন বছরের প্রথম দিনটি বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন। আর এই বর্ষবরণ ঘিরে দেশজুড়ে চলে নানা উৎসব। দেশের অন্য জেলার ন্যায় ময়মনসিংহেও পালন করা হবে দিনটি। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার বিভাগীয় এই নগরে বর্ষবরণ উদযাপনে চলছে সাদামাটা প্রস্তুতি। জেলা প্রশাসনের যথাযথ উদ্যোগ না থাকার কারণে এবার পহেলা বৈশাখ উদযাপনে তেমন তোড়জোড় নেই বলছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা। এ ছাড়া বর্ষবরণ ঘিরে অনেকের মধ্যে ভীতিও কাজ করছে। তবে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজিম উদ্দিন বলছেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে ইতোমধ্যে আলোচনা সভা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও ছিল। তারা আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবেন। রবিবার (১৩ এপ্রিল ২৫) সকালে নগরের নতুন বাজারে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বাংলা নববর্ষ উদযাপনে কাজ করছেন শিল্পীরা। পুরোনো মুখোশ, পাখি, পাখা পরিষ্কার করছে তারা। আয়োজকরা জানান, এবার জেলা প্রশাসন তাদের সঙ্গে সমন্বয় না করায় আলাদাভাবে আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করছেন তারা। একই অবস্থা দেখা গেছে মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ে। গত বছরে শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত বাঙালি ঐতিহ্য বের করে পরিষ্কার করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অন্যান্য বছর হাসি-খুশিভাবে কাজ করলেও এবার আনন্দ নেই কারো মনে। এ ছাড়া তাদের মধ্যে কিছুটা ভীতির কাজ করছে। তবে কিছুটা ভিন্নচিত্র দেখা গেছে নগরের মাসকান্দা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন চারুকলা ইনস্টিটিউটে। সেখানকার শিক্ষক শিক্ষার্থীরা রং তুলির আঁচড়ে সাজাচ্ছেন প্যাঁচা, মাস্ক, বাঘ, ফেস্টুন এবং প্ল্যাকার্ড। শান্তির প্রতীক হিসেবে থাকছে পায়রা। গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের এই আয়োজন চলছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করবেন তারা। বৈষম্য দূর করে দেশকে অনন্য উচ্চতায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজিত শোভাযাত্রায় বাঙালি ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা। তারা বলছেন, এবার শোভাযাত্রায় বাউল-সাধুশিল্পী, কৃষক, রিকশা ও ঘোড়ার গাড়ি অংশ নেবে। থাকবে কাঠের বাঘ, ইলিশ মাছ, শান্তির পায়রা, পালকি, ও ‘মুগ্ধ’ পানির বোতল। এ ছাড়া সুলতানি ও মুঘল আমলের মুখোশ, রঙিন চরকি, তালপাতার সেপাই, পাখি, পাখা, ঘোড়া, পালকি, দোয়েল এবং লোকজ চিত্রাবলি থাকবে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন চারুকলা ইনস্টিটিউটের রেশমা আহমেদ বলেন, “বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রায় ফুটিয়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করছি। বরাবরের ন্যায় এবারও আমাদের শোভাযাত্রায় ভিন্নতা থাকছে। আমাদের এবারের মোটিফ হচ্ছে শান্তির পায়রা। শান্তির পায়রা হওয়ার কারণ হচ্ছে, সারাবিশ্বে দ্বন্দ্ব সংঘাত থেকে মুক্তি নিয়ে জাতিকে শান্তির বার্তা দেওয়া। বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন ময়মনসিংহের সমন্বয়ক ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জেলা শাখার সহসভাপতি সারওয়ার কামাল রবীন বলেন, “প্রতিবার জেলা প্রশাসন আমাদের সঙ্গে সমন্বয়ন করে পহেলা বৈশাখ উদযাপন অনুষ্ঠান আয়োজন করলেও এবার তারা তা করেনি। তাই আমাদের সাধ্যমত অনুষ্ঠান আয়োজনের চেষ্টা করছি।

সোমবার সকাল ৭টায় আমাদের আনন্দ শোভাযাত্রাটি নগরের কৃষ্ণচূড়া চত্বর থেকে শুরু হয়ে কাচারিঘাট গিয়ে শেষ হবে। এতে ৩২টি সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করবে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক তাদের অনুষ্ঠান আলাদাভাবে করছেন। তাদের শোভাযাত্রা মহাবিদ্যালয় থেকে সকাল ৮টায় শুরু হবে। এ বছর ভিন্ন রকম পরিবেশ বাংলা নববর্ষ উদযাপন হচ্ছে। তাই কিছুটা ভীতিও কাজ করছে। মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল আলম বলেন, প্রতিবছর নববর্ষের মূল আয়োজন আমাদের স্কুলে হলেও এবার তা হচ্ছে না। কারণ নববর্ষ অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ছিলেন মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আমীর আহমেদ চৌধুরী রতন স্যার। এবার প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, আমাদের স্কুল থেকে একটি শোভাযাত্রা নিয়ে যেন তাদের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করি। তাই পুরোনো সব আনুষঙ্গিক ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করব শোভাযাত্রা যেন প্রাণবন্ত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজিম উদ্দিন বলেন, “বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ডাকা আলোচনা সভায় কাদেরকে ডাকা হয়নি সে বিষয়ে অবগত নই। তবে আশা রাখছি অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন হবে। জেলা প্রশাসকের আয়োজনে আনন্দ শোভাযাত্রাটি সোমবার সকালে মহাবিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে টাউন হল মোড় ঘুরে বৈশাখী মঞ্চে গিয়ে শেষ হবে। পরে সেখানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31