
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পীর রহিম শাহের মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের নেই কোন শক্ত অবস্থান। গত (২৮ ফেব্রুয়ারী) জুমাবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ‘সিরাতে মুস্তাকিম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে হামলাকারীরা লোহার রড, গাবের লাটি, চাপাতি, হকিস্টিক হাতে উঁচিয়ে মিছিল নিয়ে মাজারের দিকে এগিয়ে আসে এবং সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট চালায়। একপর্যায়ে তারা মাজারে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘোড়াঘাট থানার ওসি নাজমুল হক গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, “বিক্ষুব্ধ জনতা মাজারে অবস্থান নিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার মাজারটির মোতাওয়াল্লী মোঃ আলম সরকার অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ঘটনার দিন রাত ৯টা পর্যন্ত পুলিশের কোনো দল ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেনি’।
ঘোড়াঘাটের রানীগঞ্জ বাজারে পীর রহিম শাহ ভাণ্ডারীর মাজারে প্রতি বছর ২ থেকে ৪ মার্চ বার্ষিক ওরস মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এবারও আগামী রোববার থেকে ওরস আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে, স্থানীয় ‘সিরাতে মুস্তাকিম পরিষদ’ সংগঠন এই ওরসের বিরোধিতা করে আসছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী তারিখে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানাধীন কশিগাড়ী গ্রামে অবস্থিত রহিম শাহ ভান্ডারীর দরবার শরিফের বাৎসরিক ওরস চলাকালীন ঘোরাঘাট উপজেলার বারো পাইকার গড় গ্রামের মোঃ কাদের মোল্লাহর তিন ছেলে মোঃ মনোয়ার মোল্লা, মোজাফফর মোল্লা ও মোজাম্মেল মোল্লা শতাধিক উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের নিয়ে দরবার শরিফের মাজারে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করে। সন্ত্রাসীরা উরশে ভক্তদের দেওয়া ৬টি গরু ১৭ টি খাসি, মাজারের দান বাক্সের প্রায় ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে ও আলমারিতে থাকা ১০ লক্ষ টাকা, প্রায় ৩৫ ভড়ি স্বর্ন লুট করে নিয়ে যায়। মাজারের খাদেম সহ, প্রায় ২০ -২৫ জনকে গুরুতর আহত করে। পরে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঘটনাস্থলে পুলিশও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মাজারে হামলার ঘটনায় গত ৩ মার্চ ২০২৫ইং তারিখে মাজারের ভক্ত মোঃ আলম সরকার থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করে। ঘোড়াঘাট থানার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মাজারে হামলা ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যথোপযুক্ত আইনি ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। ঘটনার সুত্রপাত, উক্ত আসামীরা দীর্ঘদিন যাবত দরবারের সম্পত্তি আত্মসাৎ এর নিমিত্তে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। অতপর সন্ত্রাসীরা নামে বেনামে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয় মামলা না করার জন্য প্রান নাশের হুমকি দিতে থাকে। বর্তমানে মাজারের খাদেম মোঃ শহিদুল ইসলাম জিন্না ও তার পরিবার প্রান ভয়ে পালিয়ে জীবন যাপন করে যাচ্ছে।










