সরকারি নদী খননের মাটি বিক্রি: প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা
Spread the love

মোঃ রুবেল মিয়া : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারিভাবে খনন করা নদীর মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। বড়াল নদীর মাঝালিয়া, কান্ঠালিয়া, ও পাহাড়পুর অংশে গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যে শত শত ডাম্প ট্রাকে মাটি বিক্রি হলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে মাটি বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে মাটি বিক্রেতাদের দাবি, তারা জেলা-উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েই এ কাজ করছেন। ২০২৪ সালে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে লোহজং নদী খনন করা হয়। খননের সময় নদীর দুই পাড়সহ পার্শ্ববর্তী ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে প্রায় ২০ ফুট প্রস্থ ও ১০ ফুট উঁচু করে মাটি রাখা হয়। এরপর জমির মালিকরা সেই মাটির ওপর কলাবাগানসহ বিভিন্ন বৃক্ষ রোপণ করেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী এসব মাটি কোনো ব্যক্তির বিক্রির সুযোগ নেই। তবে স্থানীয় দলীয় নেতারা এই মাটি গাড়িপ্রতি ১,০০০-১,৮০০ টাকা দামে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত দুটি এক্সকেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে মাটি কেটে প্রায় ২০টি ট্রাক্টরে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২০০-২২৫ গাড়ি মাটি বিক্রি করা হয়, যার বাজারমূল্য দিনে প্রায় ২-২.৫ লাখ টাকা।

মাটিবোঝাই ট্রাকের চলাচলে রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে এবং ভেকু ও ডাম্প ট্রাকের শব্দে স্থানীয়দের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কৃষকরাও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, কারণ মাটি কাটার আগে তারা কলাগাছসহ অন্যান্য বৃক্ষ কেটে ফেলছে। অভিযোগ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া শনিবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পাড়ে দুটি এক্সকেভেটর মেশিন মাটি কাটার অপেক্ষায় আছে। ইতোমধ্যে মাঝালিয়া থেকে গুনটিয়া নদী পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকার মাটি বিক্রি হয়ে গেছে। মাটি বিক্রির দায়িত্বে থাকা আশরাফুল ইসলাম দাবি করেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। তবে নদী খননের মাটি বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। কান্ঠালিয়া গ্রামের রবিচন্দ্র দে ও রাজীব সাহা জানান, তারা প্রতি গাড়ি মাটি ১,২০০ টাকা দরে কিনেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাড়ির পাশে নদী থাকার পরও আমাদের নগদ টাকায় মাটি কিনতে হচ্ছে।” এসএসসি পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, রাতভর ট্রাকের শব্দে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা বা ঘুম করতে পারছেন না। এক্সকেভেটর মালিক বাবু জানান, ডিসি-ইউএনও ও ওসির অনুমতি নিয়েই মাটি কাটা হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম আরিফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। নদী খননের মাটি বিক্রির কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31