
রমজান মাস ইসলামের অন্যতম পবিত্র মাস, যা কুরআন নাজিলের মাস হিসেবেও পরিচিত। এই মাসে মুসলমানরা রোজা পালন করে, আল্লাহর ইবাদতে রত থাকে এবং বিশেষভাবে তারাবি নামাজ আদায় করে। তারাবি নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে অসংখ্য বর্ণনা এসেছে।
তারাবি নামাজের ফজিলত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি ইমান ও আত্মবিশ্লেষণের সঙ্গে পুণ্য লাভের আশায় রোজা রাখে, তারাবি নামাজ পড়ে এবং লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত করে, তার জীবনের পূর্বের সব গুনাহ মাফ করা হবে।” (বুখারি: ২০১৪, মুসলিম: ৭৬০)
তারাবি নামাজের বিধান
তারাবি নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা (গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত) যা পুরুষ ও নারীদের জন্য প্রযোজ্য। এশার ফরজ ও সুন্নতের পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত এই নামাজ আদায়ের সুযোগ রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে তারাবি নামাজ সম্পূর্ণ করে, সে পুরো রাত নামাজ আদায়ের সওয়াব লাভ করবে।” (তিরমিজি: ৮০৬)
তারাবি নামাজের রাকাত সংখ্যা
রাসুলুল্লাহ (সা.) তারাবি নামাজের নির্দিষ্ট কোনো রাকাত সংখ্যা নির্ধারণ করেননি। তবে সাহাবায়ে কিরামের আমল ও ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী বিভিন্ন মাজহাবে ভিন্ন মত রয়েছে:
হানাফি, শাফিয়ি ও হাম্বলি মাজহাব: ২০ রাকাত
মালিকি মাজহাব: ৩৬ রাকাত
আহলে হাদিস: ৮ রাকাত
উমর (রা.) খলিফা থাকাকালীন সাহাবাদের সম্মতিতে ২০ রাকাত তারাবি পড়ার নিয়ম চালু করেন, যা পরবর্তী সময়ে মুসলিম বিশ্বে প্রচলিত হয়ে যায়।
তারাবি নামাজে কুরআন খতম
রমজান মাসে তারাবি নামাজের মধ্যে পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করা একটি সুন্নাত আমল। সাহাবায়ে কিরাম এ আমলকে উৎসাহিত করতেন এবং আলেমগণও এটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে আসছেন।
তারাবি নামাজের সময়
রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতের বিশেষ কোনো সময়কে নির্দিষ্ট করেননি, তবে এটি এশার নামাজের পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত যে কোনো সময়ে আদায় করা যায়। তবে জামাতে পড়ার জন্য সাধারণত এশার নামাজের পরই তারাবি পড়া হয়।
উপসংহার
তারাবি নামাজ রমজানের অন্যতম বরকতময় ইবাদত, যা বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সাহায্য করে এবং গুনাহ মোচনের মাধ্যম হয়। এটি জামাতে আদায় করা, কুরআন খতম করা ও ধৈর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের পূর্ণ ফজিলত অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।









