
রমজানের ত্রিশটি ইফতারের ফজিলত ও গুরুত্ব
রমজান হলো আত্মশুদ্ধির মাস, আর ইফতার সেই মুহূর্ত যখন রোজাদার আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ করেন। প্রতিদিনের ইফতারের রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও দোয়া। নিচে মাহে রমজানের ৩০ দিনের ইফতারের বিশেষ ফজিলত তুলে ধরা হলো—
প্রথম ১০ দিন: রহমতের ইফতার
১. প্রথম রোজার ইফতার: নতুন যাত্রার সূচনা, আল্লাহর অশেষ রহমত লাভের সুযোগ।
২. দ্বিতীয় রোজার ইফতার: গুনাহ মাফের উপায়, বিশেষ করে ছোট ছোট ভুলত্রুটির জন্য।
৩. তৃতীয় রোজার ইফতার: পরিবারের সঙ্গে ইফতার করলে শান্তি ও কল্যাণ বৃদ্ধি পায়।
৪. চতুর্থ রোজার ইফতার: গরিব-দুঃখীদের খাওয়ালে ইফতারের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
৫. পঞ্চম রোজার ইফতার: দোয়া কবুলের বিশেষ সময়, বিশেষত আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ।
৬. ষষ্ঠ রোজার ইফতার: ইফতারে খেজুর খেলে রাসুল (সা.)-এর সুন্নত পালন ও বরকত লাভ হয়।
৭. সপ্তম রোজার ইফতার: তাকওয়া অর্জনের সহায়ক, আত্মসংযম শেখার মাধ্যম।
৮. অষ্টম রোজার ইফতার: ইফতারের সময় পানি পান করা গুনাহ মাফের উপায় হতে পারে।
9. নবম রোজার ইফতার: দরিদ্রদের মাঝে ইফতার বিতরণ করলে দ্বিগুণ সওয়াব।
১০. দশম রোজার ইফতার: এই দিনের ইফতার রহমতের শেষ ধাপ, ক্ষমা লাভের দোয়া করা উচিত।
দ্বিতীয় ১০ দিন: মাগফিরাতের ইফতার
১১. এগারোতম রোজার ইফতার: অন্তরের শুদ্ধি ও দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত।
১২. বারোতম রোজার ইফতার: হারাম থেকে দূরে থাকার জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায়।
১৩. তেরোতম রোজার ইফতার: কিয়ামতের দিন রোজাদারদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি।
১৪. চৌদ্দতম রোজার ইফতার: পরিবারের সঙ্গে একত্রে ইফতার করলে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হয়।
১৫. পনেরোতম রোজার ইফতার: গুনাহ থেকে মুক্তির বিশেষ সুযোগ, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার সময়।
১৬. ষোলোতম রোজার ইফতার: খাদ্য অপচয় না করার শিক্ষা দেয়, সংযমের গুরুত্ব বুঝতে শেখায়।
১৭. সপ্তদশ রোজার ইফতার: বদর যুদ্ধের বিজয়ের শিক্ষা স্মরণ করার সময়।
১৮. অষ্টাদশ রোজার ইফতার: মাগফিরাতের শেষ প্রহর, আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করার সময়।
১৯. উনিশতম রোজার ইফতার: আত্মিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যম, ইবাদতের প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার সুযোগ।
২০. বিশতম রোজার ইফতার: ইফতার করানোর সওয়াব হাজারগুণ বৃদ্ধি পায়।
শেষ ১০ দিন: নাজাতের ইফতার
২১. একুশতম রোজার ইফতার: শবে কদরের রাতের শুরু, বিশেষ দোয়া করার সময়।
২২. বাইশতম রোজার ইফতার: আত্মশুদ্ধির সর্বোচ্চ স্তর অর্জনের সময়।
২৩. তেইশতম রোজার ইফতার: লাইলাতুল কদর পাওয়ার সম্ভাবনা, ইবাদতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
২৪. চব্বিশতম রোজার ইফতার: জান্নাতের সুসংবাদ লাভের সময়।
২৫. পঁচিশতম রোজার ইফতার: ইফতারের মাধ্যমে গুনাহ মাফের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
২৬. ছাব্বিশতম রোজার ইফতার: আল্লাহর রহমত লাভের জন্য দোয়া করার সময়।
২৭. সাতাশতম রোজার ইফতার: শবে কদর পাওয়ার সম্ভাব্য রাত, ইফতারের পর বিশেষ ইবাদত করা উচিত।
২৮. আটাশতম রোজার ইফতার: শেষ দশকের ইফতার জান্নাতের দরজা খুলে দেয়ার মাধ্যম।
২৯. ঊনত্রিশতম রোজার ইফতার: রমজানের শেষ দোয়া করার সময়, ক্ষমা চাওয়ার সেরা মুহূর্ত।
৩০. ত্রিশতম রোজার ইফতার: পুরো রমজানের বরকত লাভের চূড়ান্ত সময়, বিশেষভাবে শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
উপসংহার
রমজানের প্রতিটি ইফতার শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মেটানোর জন্য নয়, বরং আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের মাধ্যম। এই সময়টিতে বেশি বেশি দোয়া করা, সংযম পালন, দান-খয়রাত করা ও ইবাদতে মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লা
হ আমাদের সকলের রোজা ও ইফতার কবুল করুন, আমিন।










