
আধুনিক প্রযুক্তির জিগজাগ ইটভাটার বৈধতা ও সরকারের নীতিমালা সহজীকরণের দাবিতে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকাল ১১টায় আলমডাঙ্গার এরশাদ মঞ্চ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। ইটভাটা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ইটভাটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্বার্থে সরকার ইতোমধ্যে পরিবেশবান্ধব ‘জিগজাগ’ ইটভাটা অনুমোদন দিয়েছে, যা বায়ুদূষণ কমিয়ে আনতে সহায়ক। কিন্তু বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বৈধ জিগজাগ ইটভাটাগুলোও হয়রানির শিকার হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১. জিগজাগ ইটভাটার লাইসেন্স ও ছাড়পত্র সহজ করা – বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্বের বিধিনিষেধের ফলে অনেক জিগজাগ ইটভাটা অনুমোদন পাচ্ছে না। তাই নিষিদ্ধ এলাকার দূরত্ব কমিয়ে যথাক্রমে ৪০০ মিটার (বসতি এলাকা) ও ৭০০ মিটার (বনাঞ্চল) নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
2. অন্যায় জরিমানা ও মোবাইল কোর্ট বন্ধ – বৈধ জিগজাগ ইটভাটায় অহেতুক জরিমানা ও অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়, অন্যথায় তারা ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদান বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন।
3. ইটভাটা বন্ধ করতে হলে ক্ষতিপূরণ প্রদান – সরকার যদি কোনো ইটভাটা বন্ধ করতে চায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
4. মাটি কাটার অনুমতির বিধান বাতিল – ডিসির অনুমতি ছাড়া মাটি কাটার বিধান সহজ করার দাবি জানানো হয়।
5. লাইসেন্স ও ছাড়পত্র নবায়ন সহজীকরণ – ইটভাটা মালিক সমিতির অনুমোদনপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে লাইসেন্স ও ছাড়পত্র নবায়ন সহজ করতে হবে।
6. ইটভাটাকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া – ইটভাটা খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে এক পথসভায় বক্তারা বলেন, “ইটভাটা খাতে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। এই খাত ধ্বংস হলে ২ কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। আমরা সরকারের বিরুদ্ধে নই, তবে আমাদের দাবি মানা না হলে ঈদের পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
পথসভায় ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দাবি আদায়ে সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি দ্রুত সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে ঈদের পর ঢাকায় মহাসমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। তারা তাদের মতামত ও সমস্যাগুলো তুলে ধরে স্মারকলিপি দিয়েছেন, যা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সরকার পরিবেশ সুরক্ষা ও শিল্প খাতের ভারসাম্য রক্ষা করতে কাজ করছে। বৈধ জিগজাগ ইটভাটাগুলো যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়েও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারের নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবে। পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বার্থে ইটভাটা খাতকে নিয়মের মধ্যে রাখতে হবে। তবে মালিকরা যদি নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অযাচিত হয়রানি করা হবে না।”










