প্রযুক্তির সাথে পরকীয়া: ভার্চ্যুয়াল আসক্তির ফাঁদে সমাজ
Spread the love

সাকিব আহসান; কানাডিয়ান সাইকিয়াট্রিস্ট এরিক বার্ন বলেছিলেন, “আমরা মানুষ হিসেবেই জন্মগ্রহণ করি, কিন্তু সভ্যতা আমাদের ব্যাঙ বানিয়ে দেয়।” তাঁর এই উক্তি আজকের প্রযুক্তিনির্ভর যুগে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে শিশুরা স্মার্টফোনের স্ক্রিনে মজে আছে, খাবারের সময় কার্টুন না দেখলে খেতেই চায় না। বাবা-মায়েরা নিজেদের ব্যস্ততার কারণে প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, শিশুরাও তাই ছোটবেলা থেকেই যন্ত্রনির্ভর হয়ে উঠছে। এর ফলে আবেগ-অনুভূতি ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে, সৃজনশীলতা হারিয়ে যাচ্ছে, আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইক-কমেন্টের প্রতিযোগিতা জীবনের মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেটাকে জীবনের নিয়ন্ত্রক বানালে সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। বাস্তব জীবন ও ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে আমাদের সম্পর্কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এক অর্থে, বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে আমরা প্রযুক্তির সাথে একপ্রকার ‘পরকীয়া’তেই জড়িয়ে যাচ্ছি।

সময়ের এখনো অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। ভার্চ্যুয়াল জগতের দাসত্ব এড়াতে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি, নইলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক নিষ্প্রাণ, আবেগহীন সমাজে রূপ নেবে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31