
কাজী আহসানুল হাবিব,
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জাল দলিলের মাধ্যমে নিরিহ এক চা-দোকানীর জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ভুমিদস্যুরা। এ ঘটনায় আদালতে মামলার পর সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদনে জালিয়াতি প্রমাণিত হলে, ভুমিদস্যুর মুলহোতা ও দলিল লেখকসহ ১৪ জনের নামে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। রবিবার গাজীপুর আদালতে জামিন চাইলে জালিয়াতির মুল আসামীকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
আটককৃত হলেন- কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের জালশুকা এলাকার রবিউল করিমের স্ত্রী শারমিন করিম মুন্নি।
সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের জালশুকা এলাকার চা-দোকানী ছফুরা বেগমসহ ওয়ারিশগণের পৈতৃক সূত্রে একশত সাড়ে ৭৭ শতাংশ জমির মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু গত ২০০৮ সালে ভুমি জালিয়াত চক্রের সদস্য রবিউল করিম জালিয়াতির মাধ্যমে কাল্পনিক দাতা সাজিয়ে তার স্ত্রী শারমিন করিম মুন্নির নামে একশত সাড়ে ৭৭ শতাংশ জমির একটি আম-মোক্তারনামা দলিল (নং-৪৩০২) করেন। ওই দলিল মূলে গত ২০২৩ সালের ৯ জুলাই শারমিন করিম মুন্নি একটি রেজিষ্ট্রি বায়নাপত্র দলিল (নং-৮৫৩৫) মুলে জালিয়াতি চক্রের সদস্য আনিছ আলী, আব্দুল বাছেদ, জামাল উদ্দিন, আজাহারুল, আনিছুর রহমানসহ সাতজনের নামে হস্তান্তর করেন। এরপর গত ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট ভূমি জালিয়াত চক্রের সদস্য রবিউল করিমের পরামর্শে চক্রের সদস্য আনিছ আলী, আব্দুল বাছেদ, জামাল উদ্দিন, আজাহারুল, আনিছুর রহমানসহ ১৫/১৬ জন ওই জমি জবর-দখলের চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে ওই জমির মালিক চা-দোকানী ছফুরা বেগমসহ অন্য ওয়ারিশগণ বাধা দেয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পরামর্শে চা-দোকানী ছফুরা বেগম বাদী হয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ভূমি জালিয়াত চক্রের সদস্যরা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ার কারণে কোন প্রতিকার পাননি বাদী চা-দোকানী। এরপর তিনি গাজীপুর আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি গাজীপুর সিআইডিকে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। পরে বিভিন্ন দিক তদন্ত করে শারমিন করিম মুন্নির আম-মোক্তরনামা দলিলটি প্রাথমিক ভাবে জাল প্রমানিত হয়েছে মর্মে সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। এরপর গত ২২ সেপ্টেম্বর ওই জালিয়াতি চক্রের মুলহোতা রবিউল করিম, তার স্ত্রী শারমিন করিম মুন্নি, দলিল লেখক তুহিন খান, তমছের আলী, আনিছ আলী, জামাল হোসেন, আজাহারুল ইসলাম, আব্দুল বাসেদ, আনিছুর রহমানসহ ১৪জনের নামে ওয়ারেন্ট জারি করে আদালত। এদের মধ্যে ৯জন গত ২৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট থেকে ৪২ দিনের জামিনে আসেন। ওই জামিনের মেয়াদের শেষ দিন গতকাল রোববার গাজীপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-৩ এ হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করেন মামলার সাত আসামী। এসময় জামিন না মঞ্জুর করে ওই জালিয়াতির মুলহোতা শারমিন করিম মুন্নিকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। গাজীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন নাহার এ রায় দেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ জানান, শুনেছি ওই মামলার এক আসামীকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।










