
বছরের শুরুতে স্কুলে স্কুলে শুরু হয়েছে ভর্তি বানিজ্য। অনেকেই একে শিক্ষা বানিজ্য নামে অভিহিত করছেন। ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসেই এলাকার নতুন পুরাতন সকল শিক্ষার্থীকেই ভর্তির নামে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
এখন সরকারের কাছ থেকে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনের নামে এমপিওভুক্তির টাকা নেয়ার পরও কেন এমপিওভুক্ত স্কুলগুলোতে এত বেশী টাকা নিতে হবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। আমজনতা মনে করেছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র জনতার বিজয়ের পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আসবে, আমূল পরিবর্তন হবে। কিন্তু না, শিক্ষা ব্যবস্থায় যা লাউ, তই কদু। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্ণিং বডি ভেঙে দিয়েছে সরকার। একক ক্ষমতায় এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপ্যাল ও হেডমাস্টাররা শিক্ষার্থীদের ডেভলপমেন্ট চার্জ, ল্যাবরেটরি ফি, অন্যান্য ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, সেশন চার্জ, টিউশন ফি ইত্যাদির নামে খরচ দেখিয়ে বছরের শুরুতেই মোটা অংকের টাকা খসিয়ে নিচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে। সরকার দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করছেন। স্কুল ভবন থেকে শুরু করে স্কুল গেট এবং দেয়াল পর্যন্ত নির্মাণ করে দিচ্ছে। এমনকি নতুন স্কুল ও কলেজ ভবন তৈরী করে দেয়ার পাশাপাশি সেইগুলোর আসবাবপত্র এবং চেয়ার টেবিল, বেঞ্চও সরকার তৈরী করে দিচ্ছে। সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রের ভবন নির্মাণে এতো সুযোগ সুবিধা দিলেও কেন প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফাউ ফাউ ডেভলপমেন্ট চার্জ আদায় করছেন শিক্ষকরা।
পিংকি দত্ত নামে একজন অভিভাবক বলেন, ” সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতিমালা না মেনে বিভিন্ন কথা বলে তারা অতিরিক্ত ফি আদায় করছে, ফলে একই পরিবারে দুই তিনটি সন্তান শিক্ষার্থী থাকলে তাদের এই ফ্রি নিয়ে রীতিমতো গলার কাঁটা বেঁধে যাওয়ার অবস্থা”।
এ বিষয়ে উপজেলার মাধ্যমে শিক্ষা অফিসার জিয়া উদ্দিন আহমেদের কাছে জানতে চাইলেন বলেন,”সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি নেওয়া উচিত,তবে নিয়ম বহির্ভূত কোন কার্যক্রমে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জড়িত থাকলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
ব্যাতিক্রম জেনেছি হারদী মীর শামসুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পাঁচলিয়া জামাল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় যেখানে ভর্তি ফিস যথাক্রমে ৫০০ ও ৮০০ টাকা।
সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে যত ভালো কাজই করুক না কেন কিছু ফ্যাসিবাদী শিক্ষক/ প্রিন্সিপাল তাদের আখের গোছানোর জন্য ঠিকই অনৈতিক কাজ করছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভালোভাবে পাঠদান করতে না পারলেও অবৈধভাবে ঠিকই নিজের পকেট ভরছেন।
বিষয়টি গুরুত্ব সহকারের দেখার জন্য উপজেলা প্রশাসন, সুশীল ও নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।










