নওগাঁয় বিনামূল্যে বই বিতরণের সময় টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

মোঃ রমজান হোসেন  : নওগাঁর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। জেলার বদলগাছি উপজেলার বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। বই বিতরণে প্রতি শিক্ষার্থী থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। আবার যারা টাকা দিতে পারছে না, তাদের বই দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষকের দাবি, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, বইয়ের জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৩৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, এর মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের। বছরের প্রথম দিনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণের জন্য সব বই সরবরাহ করা হয়েছিল। গত বুধবার শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব বই বিতরণ করা হয়। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতি শিক্ষার্থী থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করার পর বই বিতরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ জানান, বই দিয়ে তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে বই দেওয়া হবে না, এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা মোছা. লিন্ডা রাখা। তাই বাধ্য হয়ে ২০০ টাকা করে দিয়ে তারা বই নিয়েছে। আবার যারা টাকা দেয়নি, তাদের বই দেওয়া হয়নি।
মাহফুজ, আবুতালেব, ফাতমাসহ কিছু অভিভাবক বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ বই বিতরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। না দিলে বই দেয় না। এই কারণে তাদের ছেলে-মেয়ে ২০০ টাকা করে দিয়ে বই নিয়ে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা দাবি জানাচ্ছেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. লিন্ডা রাখা বলেন, ‘টাকা না দিলে বই দেওয়া হবে না,‘ এটি সত্য নয়। টাকা না দিতে পারা অনেক শিক্ষার্থীকে বই দেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের মা সমাবেশের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৬ জন শিক্ষার্থী টাকা দিয়েছেন। আজ কিছু অভিভাবক এসে অভিযোগ করায় টাকা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানেন এবং তিনিই তাকে ২০০ টাকা করে নিতে বলেছেন। বদলগাছি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কথা বলে ২০০ টাকা করে নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য যদি কেউ টাকা দেয়, তবে তা নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রধান শিক্ষক মোছা. লিন্ডা রাখাকে আমি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো অনুমতি দিইনি।’
এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বই বিতরণ নীতিমালায় এটি বিনামূল্যে বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বই বিতরণের নামে এভাবে টাকা আদায়ের কোনো বিধান নেই। যদি এভাবে টাকা নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031