কালিহাতীতে শীতকালীন সবজি চাষ: স্বপ্নের মাঠে কৃষকদের নতুন গল্প।
Spread the love

গৌরাঙ্গ বিশ্বাস : শীতের মৌসুম যেন কালিহাতীর কৃষকদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে। এই সময়টাতে মাঠে দেখা যায় এক ভিন্ন দৃশ্য—সারিবদ্ধ সবজি খেত, কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যা আর সবুজের সমারোহ। তবে, তাদের গল্পটা শুধু মাঠের নয়, বরং স্বপ্ন আর সংগ্রামেরও।

কৃষকেরা যা বলছেনঃ ব্রজগাতী গ্রামের আজিজুল হকের কথা শুনলেই বোঝা যায়, কৃষিকাজ শুধু তাদের পেশা নয়, বরং জীবনের আশা। তিনি বলেন, “এবার ফুলকপি ও বাঁধাকপি লাগিয়েছি। সঠিক পরিচর্যা করছি যেন ভালো ফলন পাই। তবে বৃষ্টি হলে সমস্যায় পড়ব।” অন্যদিকে বর্তা গ্রামের রনজিত বাবু জানান, “২৬ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে বাজারে ভালো দাম পাব।”
তারা শুধু ফসল ফলাচ্ছেন না, বরং তাদের ঘামে স্বপ্নের বীজ বুনছেন।

কৃষি আধুনিকায়নে নতুন উদ্যোগঃ
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা মামুন জানালেন, কৃষকদের সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ এবং চাষাবাদ পদ্ধতির উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু রয়েছে। তার ভাষায়, “৫৮০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কৃষকরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। আমরা তাদের সর্বোচ্চ সহায়তা করছি।”

তবে কৃষকদের মতে, শুধু প্রশিক্ষণ নয়, প্রয়োজন আরও সহজলভ্য কৃষি উপকরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর সমাধান।

চাষিদের সংগ্রাম ও চ্যালেঞ্জঃ
শীতকালীন সবজি চাষ যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি থাকে অনেক চ্যালেঞ্জও। আবহাওয়ার অবস্থা, পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং বাজারজাতকরণের সমস্যা সব মিলিয়ে কৃষকদের মাথায় সবসময় দুশ্চিন্তা থাকে। উল্লেখযোগ্যভাবে, শিম চাষি শাহজাহান মিয়া বললেন, “আমরা ভালো ফলন করতে পারি, তবে বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেলে সব পরিশ্রম বিফলে যাবে।”

উন্নয়নের পথে কৃষিঃ
শীতকালীন সবজি কালিহাতীর অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি বড় ভিত্তি। স্থানীয় বাজার থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সবজি সরবরাহের মাধ্যমে কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতেও রাখছেন অবদান।

শেষ কথা
এই গল্প শুধু সবজি চাষের নয়, বরং কৃষকদের নতুন আশা, প্রচেষ্টা এবং সম্ভাবনার। প্রকৃতি এবং সরকারী সহায়তা পেলে কালিহাতীর কৃষকদের এই উদ্যোগ সাফল্যের গল্পে পরিণত হবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31