রাজিবপুরে পদত্যাগ থেকে পুনরায় পদে ফেরা নিয়ে তোলপাড় এলাকা
Spread the love

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং একই সঙ্গে রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোখলেছুর রহমানকে নিয়ে কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্য এবং বিভিন্ন অভিযোগ ঘিরে এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “কুড়িগ্রামের রাজিবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং একই সঙ্গে রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোখলেছুর রহমান। সারাদেশে একযোগে যেসব এমপিওভুক্ত কলেজ জাতীয়করণ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রাজিবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজও একটি। রাজিবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট সরকারি গেজেটভুক্ত হয়। সে কারণে বিধি মোতাবেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে প্রতিষ্ঠানের সকলকেই পুনরায় নিয়োগ ও যোগদান করতে হয়েছে। সরকারি নিয়োগ বিধি অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না। অথবা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ বা যোগদান করতে পারবেন না। যেহেতু মোখলেছুর রহমান উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদে বিদ্যমান ছিলেন, সে কারণে সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগের শর্ত পূরণের জন্য ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মাহবুবুর রশীদ মন্ডলের নিকট হস্তান্তর করে অব্যাহতি গ্রহণ করেন। দায়িত্ব হস্তান্তর পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি কলেজের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ গ্রহণ করে যোগদান করার কারণে দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। সে কারণে জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মাহবুবুর রশীদ মন্ডল ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে বহাল থাকবেন। ওই পত্রে সদয় অবগতির জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপির দপ্তর সম্পাদক, জেলা বিএনপির সভাপতি/সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বরাবর অনুলিপি প্রদান করেন বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু দাপ্তরিক প্রয়োজন মোতাবেক পদত্যাগ বা অব্যাহতি পত্র উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস রাজিবপুর, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কুড়িগ্রাম, আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকায় জমা দেন। কিন্তু কোনো এক দুরভিসন্ধিমূলক কারণে কেন্দ্রীয় বিএনপির দপ্তর, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট অনুলিপি প্রদান করেননি বলে জানা গেছে। শুধুমাত্র রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে অনুলিপি দিয়ে তাতে অব্যাহতি গৃহীত হয়েছে মর্মে লিখে নেন এবং ওই ছাড়পত্র দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ ও যোগদান সম্পন্ন করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। সরকারি চাকরি বিধি মোতাবেক ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান নন-ক্যাডার (প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা) হিসেবে পিআরএল-এ কর্মরত আছেন।

ইতিমধ্যে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে পূর্ববর্তী সরকারের পতন হলে, গত ৫ আগস্ট থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপি ও জেলা বিএনপির কোনো নির্দেশনা ছাড়াই নিজের ইচ্ছায় স্ব-ঘোষিত সভাপতি হিসেবে রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ দখল করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির কিছু নেতাকর্মী। বিএনপি দলীয় সকল রাজনৈতিক সভা সেমিনারে সভাপতি হিসেবে অংশগ্রহণ করে বক্তৃতা দিচ্ছেন এবং দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এতে করে রাজিবপুর উপজেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে শুধু ক্ষোভের উদ্রেকই হচ্ছে না, মাঝে মধ্যে বিশৃঙ্খলা, হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।” এছাড়াও নিউজ পোর্টাল ও ফেসবুক পোস্টে বিভিন্ন অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ নিয়ে আসা হয়েছে। এসব বিভিন্ন নিয়ে এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়াতে তার কথা ব্যক্ত করে তিনি লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। ফেসবুক কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি খুব একটা সক্রিয় না। বিএনপির রাজনীতিতে আমার অবদান ও ত্যাগ সবার জানা। দলের কারণে নানাভাবে আমি হয়রানির শিকার। এখন আবার আওয়ামী সুবিধা ভোগীরা নতুন ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। ধাক্কা খেয়ে শক্তি অর্জন করে চলাই আমার লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি বিএনপির ধারার সঙ্গে যিনি থাকবেন তাকে নিয়ে বিপদগামীরা রম্যরচনা লেখে সামনে আসার চেষ্টা করবে। লুকিয়ে থাকা ধান্দাবাজরা পদ পদবির লোভে বিএনপির রাজনীতিকে মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’ এসব বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে তৌহিদ,সহ- সম্পাদক: sftvbd.com

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31