
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাঁশখালীর বাহারচরা কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত
দীর্ঘ ১৬ বছর পর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আংশ হিসেবে এই প্রথম মুক্ত আকাশে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী বাঁশখলাী উপজেলা বাহারচরা ইউনিয়ন শাখা জামায়াতের উদ্যোগে বিশাল কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েক হাজার কর্মীর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। দীর্ঘদিন পরে কর্মী সম্মেলনে মধ্য দিয়ে জনশক্তির জানান দেয় বৃহত্তর সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ও সহযোগী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির বাহারচরা ইউনিয়ন শাখা। স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মধ্য দিয়ে পুরো কমিউনি সেন্টার নারায়ে তাকবীর আল্লাহ হুআকবার স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন ওয়ান্ড দায়িত্বশীল ও কর্মীরা সম্মেলন প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন। সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারায় সর্বস্তরের জনসাধারণ আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মুহতারাম ইউনিয়ন আমীর জনাব হাসান আযাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে, মুহতারাম ইউনিয়ন সেক্রেটারি জনাব আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় উক্ত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সেক্রেটারি, বাঁশখালী উপজেলার সাবেক সফল ভাইস চেয়ারম্যান মুহতারাম অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাঁশখালী উপজেলা আমীর বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ মুহতারাম ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল মোস্তাফা, উপজেলা নায়েবে আমীর বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুহতারাম অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল হোসেন, উপজেলা অফিস সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মুহতারাম মাওলানা মুজিবুর রহমান, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর বাগমনিরাম ওয়ার্ডের আমীর এলাকার কৃতিসন্তান মুহতারাম সাদুর রশিদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাঁশখালী উপজেলা পশ্চিম শাখার সভাপতি মুহতারাম তাশরিফ হোসেন, বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনের রাজপথের লড়াকু সৈনিক চট্টগ্রাম উত্তর জেলার প্রধান সমন্বয়ক মুহতারাম রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী।
উক্ত সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমীর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মুহতারাম মাস্টার মুহাম্মদ ইউসুফ, ইউনিয়ন এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বিশিষ্ট সমাজ সেবক মুহতারাম কামাল উদ্দীন চৌধুরী, বশিরউল্লাহ মিয়াজি বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট পল্লী চিকিৎসক জনাব ডা: মাহবুবুল আলম, ইউনিয়ন যুব পরিচালক জনাব গাজী কামরুল ইসলাম কামরান, ইউনিয়ন প্রচার সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজ সেবক পল্লী চিকিৎসক জনাব ডা: শাহারিয়ার আবদুল্লাহ পারভেজ, বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব নুরুল হক চৌধুরী (প্রবাসী) প্রমুখ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ মীর মুগ্ধ, শহিদ শান্ত সহ সকল শহিদের এবং সকল আহত মজলুমদের ত্যাগের কথা স্বরণ করে তাঁদের জন্য আল্লাহর কাছে উত্তম জাজা কামনা করেন। তারা বলেন যখন ছাত্ররা স্বৈরাচার খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তখন হাসিনার নির্দেশে পুলিশ নির্বিচারে ছাত্র, নারী ও শিশুদের হত্যা করতে থাকে কিন্তু ছাত্রসহ আপমার জনতা রাজপথে অটল থেকে যুদ্ধ করেছে, শহিদ হয়েছে। ফলে আল্লাহতা’আলা ফেরেস্তা দিয়ে সাহায্য করেছে। আন্দোলনের ফলে ১৬ বছর ধরে জেকে বসা জামানার ফেরাউন স্বৈরাচার খুনি হাসিনা পালিয়ে গেছে। শহিদ আল্লামা সাঈদীর ভবিষ্যত বাণী অনুযায়ী হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে পড়েছে আর লুকানোর জন্য ইঁদুরের গর্তও খোঁজে পাচ্ছে না।
বক্তারা আরও বলেন এই বিজয় ছাত্রদের এই বিজয় জনগণের এবং বিজয়ের জন্য আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায়, আল্লাহর প্রশংসা ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
অতিথিরা আরও বলেন,স্বৈরাচার হাসিনা বিনা অপরাধে মাওলানা নিজামী, আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, কামরুজ্জামান সহ অসংখ্য ভাইকে ফাঁসি দিয়ে শহিদ করেছে এবং অধ্যাপক গোলাম আজম, আল্লামা সাঈদী সহ অনেক আলেমকে জেলে আটকে শহিদ করেছে কিন্তু স্বৈরাচারের শেষ রক্ষা হয়নি। শহিদের বিনিময়ে এসেছে দ্বিতীয় স্বাধীনতা। আমাদের এই অর্জিত স্বাধীন দেশে যাতে কেউ সংখ্যালঘুসহ কোন মানুষের জান মালের উপর হালমা না করে এবং প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করে দেন।
কোরআন হাদিসের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখতে হবে।
দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জামায়াত শিবিরের জনশক্তিকে অতন্দ্র প্রহরী হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে কুরআনের রাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহিদদের বদলা নিতে হবে।
কর্মী সম্মেলন শেষ একটি বিজয় মিছিল বের করা হয়।










