
ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ অফিসে বসে শাহদাত হোসেন গুনে নিচ্ছেন ঘুষের টাকা। চাহিদার চেয়ে পরিমাণ কম হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে টাকা ফেরত দেয়ার কথাও বলছেন।
এদিকে, ভিডিওটি সামনে আসার পর ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের ঈদগাঁও উপজেলার প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ৪ জুলাই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বরখাস্ত আদেশ দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী বলেন, জনস্বাস্থ্য অফিস থেকে আমাকে একটি টিউবওয়েল বরাদ্দ দেওয়া হয়। টিউবওয়েলটি পেতে সরকারি ফি-এর পাশাপাশি শাহদাত অতিরিক্ত দশ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের জন্য তাকে ঘুষের পুরো টাকা দিতে না পারায় আমার সঙ্গে তর্কে জড়ান। টাকা কম হওয়ায় আমাকে বকাঝকা করেন। আবুল কাশেম নামে অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে আমাকে ৮০০ ফুট গভীর একটি নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। শাহদাত আমাকে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কিনতে বলেন। তার কথা মতো আমি সব কিনে দিই। কিন্তু তারা কাজ না করে জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায়। এতে আমার প্রায় ৬৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। শুধু ঘুষ বাণিজ্য নয়, ঈদগাঁওতে যোগদানের পর থেকে সরকারি টিউবওয়েল বাণিজ্য, ঠিকাদারদের জিম্মি করে টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগ রয়েছে শাহদাতের বিরুদ্ধে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মাহামুদুল হাসান বলেন, আমার মাঠকর্মী কী করেছে, তা আমি অবগত নই। তবে আমি কোনো অনিয়ম কিংবা অনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নই। এরপরও কেনো আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে জানি না।
জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি কাজে নিয়মের অতিরিক্ত টাকা লেনদেন হয়ে থাকলে তা চরম অন্যায়। যে অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।










