খুলনা নগরীর খালিশপুরে বর্তমান এক আতঙ্কের নাম কানা মনি ও বোমা নাসির।
Spread the love

রাজনীতিকে ব্যবহার করে এলাকায় এক ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে তুলেছে মোরশেদ আহমেদ মনি ওরফে (কানা মনি) ও নাসির সরদার ওরফে (বোমা নাসির)।

অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে গড়ে তুলেছে সাম্রাজ্য, পাশাপাশি তৈরি করেছে তাদের নিজস্ব একটি সন্ত্রাস বাহিনী, এমনি ভাবে রাজনীতির নামে অপরাধ ও ত্রাস সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত ও জিম্বি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তাদের কথা না শুনলে তার পরিণতি হয় ভয়ংকর, একাধিক ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করলে রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে তারা নিজ স্বার্থ হাসিল করে। এতে পুলিশ প্রশাসনকে তক্তা না করে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে দেয়। যারাই অভিযোগ দেয় তাদের বিরুদ্ধেই তার পোষা বাহিনী দিয়ে হামলা ও মারধর করার অভিযোগ আছে একাধিক মানুষের। এতে থানায় অভিযোগ দিলে ভুক্তভোগীরদের জীবনে আরো ভয়ংকর পরিস্থিতি নেমে আসে। ফলে এতে আতঙ্কিত রয়েছে এলাকাবাসী ।
বলছিলাম খুলনা নগরীর খালিশপুর থানার চরেরহাট ভাল্লর ভিল এলাকার মৃত: শেখ সুলতান ক্যাশিয়ার এর ছেলে ও খালিশপুর ১৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি
মোরশেদ আহম্মেদ মনি ওরফে কানা মনি,ও ১৪ নং ওয়ার্ড বৈকালী বাজার এলাকার মৃত নাজেম সরদারের ছেলে নাসির সরদার ওরফে বোমা নাসির এর কথা। এলাকায় এই দুজনার নাম শুনলেই মানুষ এখন আতঙ্কিত। এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের আরেক নাম যেন এই দুইজনের কানা মনি ও বোমা নাসির। এই দুই বন্ধুর অপরাধ ও অপকর্মের বিস্তারিত নিয়েই এবারের অনুসন্ধানের প্রথম পর্ব।

গত ১৫/৫/২০২৪ তারিখে : এক ভুক্তভোগী মো: হাফেজ খার মেয়ে আলেয়া বেগমের সাথে, নাসির সরদারে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। এই কথাকে কেন্দ্র করে (নাসির সরদার) এর ঘনিষ্ঠ মোরশেদ মনি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় ভুক্তভোগীর বসতবাড়িতে। ভুক্তভোগী থানায় জিডি করার পরেও পেতে থাকে একের পর এক প্রাণ নাসের হুমকি। ভুক্তভোগী নিরুপায় হয়ে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। কিন্তু সেখানেও টাকা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে হেরে যেতে হয় ভুক্তভোগীর। নিউজ করলে সাংবাদিকের উপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও অর্থের বিনিময় নিউজ বন্ধ করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী আলেয়া বেগমের বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় (কানা মনির) সন্ত্রাসী বাহিনী, তাদের পরিবারের সদস্যদের উপর বেধড়ক পেটানো হয় এমনকি বৃদ্ধ মা ও ছাড় পায়নি এই হায়নাদের হাত থেকে, চোখের নিমিষেই সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে এই পরিবার।
কিন্তু এখানেই যে শেষ নয় আরেকটু অনুসন্ধান করতেই বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সকল তথ্য,

এই মোরশেদ মনি ও তার বন্ধু নাসির সরদারের এর কর্মকাণ্ড যেন হার মানাবে হিন্দি থ্রিলার মুভি কেও,তাদের কথার বাইরে যে যাবে অথবা তার লোকেদের বাইরে যে যাবে তারই হতে হবে হয়রানি শিকার পেতে হবে প্রাণনাশের হুমকি চলে যেতে পারে জীবনও।

অনুসন্ধানের সময় খোজ মেলে এমন এমন অনেক ভুক্তভোগীদের নাম, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই মোরশেদ মনি ও নাসির সরদারের অত্যাচারের শিকার। নাম না বলতে ইচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সরকারি বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোরশেদ মনি হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে হুমকি, মারধর ও মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। ভুক্তভোগীরা মোরশেদ মনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মোঃ নজরুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী বলেন,এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সরকারি বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোরশেদ মনির হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। টাকা ফেরত চাইতে গেলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। এমনকি নিজের দলীয় ছেলেকেও ছাড় দেন না মোরশেদ মনি। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি ফোন দিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেন। যার রেকর্ড আমার কাছে আছে।

এই নাসির সরদার এর বাবা খুলনার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের সহচর ছিলেন তার নামঃ নাযেম সরদার।

শুধু সন্ত্রাসী কার্যক্রমেই থেমে নেই এই ভয়ানক মোরশেদ মনি ও নাসির সরদার বাহিনী, খুলনা নগরীর খালিশপুর এর অনেক বড় মাদক সেন্টিগেট গডফাদার, এই মোরশেদ আহমেদ মনি ও নাসির সরদার।
খুলনার কুখ্যাত সব মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা রয়েছে এদের। তাদের ভাষ্যমতে প্রশাসন যেন তাদের কাছে কাঠের পুতুল, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সহ মোট ১৫ টি অধিদপ্তরে তাদের নামে শ্রমিকরা দিয়েছিল চিঠি কিন্তু কোন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় নাই।
একাধিকবার থানায় অভিযোগ করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই,
২০১৬ সালে খুলনা সিএসডি গোডাউন থেকে চুরীকৃত চাল নিয়ে র‍্যাব এর কাছে ধরা পড়ে এই নাসির সরদার। মামলাও হয় তার নামে কিন্তু আইনের সাথে কাবাডি খেলে টাকার জোরে মামলা খালাস করিয়ে নেন।
একাধিকবার খুলনার বিভিন্ন পত্রিকায় উঠে এসেছে নাসির সরদার ও মোর্শেদ মনির ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র তবুও প্রশাসন ছিল নীরব।

এই মোরশেদ মনির রাইট হ্যান্ড
(মুজতবা নজর)অনুসন্ধানে পাওয়া যায় এই নজরের কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ যেখানে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে যে এই নজর ইতিমধ্যে তিনজন খালিশপুর থানার ওসিকে বদলি করে দিয়েছে, ১২ নং ওয়ার্ডে এই নজরের একটি বিলাসবহুল অফিস রয়েছে যেটা এলাকার সাধারণ মানুষদের কাছে টর্চার সেল নামেও পরিচিত,
কিছুদিন আগে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের হাউসিং বাজার এলাকায় ওপেনে দেশী অস্ত্র ও আগ্নেয় অস্ত্র সহ ধাওয়া করতে দেখা যায় এই মোরশেদ মনির বাহিনীকে, সিসিটিভি ফুটেযে স্পষ্ট দেখা গেলেও প্রশাসন ছিল নীরব, এই নাসির সরদারের বাবা ছিলেন কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও চোর,
কিন্তু এই অশিক্ষিত নাসির সর্দার হাজার কোটি টাকার মালিক হলেন কিভাবে? নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে তার রয়েছে পাঁচটি বাড়ি, রয়েছে কোটি টাকার সম্পদ। তাহলে কি এই সম্পদের উৎস?
অপরদিকে বিগত দুই থেকে তিন বছর আগেও যে মোরশেদ মনি এর অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে লিভার নষ্ট হয়ে গিয়েছিল চিকিৎসা করানোর পর্যন্ত টাকা ছিল না, এই অল্পদিনে কোন আলাদিনের চেরাগ এর মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, একটি স্কুলের জায়গা দখল করে বানিয়েছেন তার বিলাসবহুল অফিস, তার সংগ্রহে রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার বিলাসবহুল গাড়ি ও কোটি টাকার বিলাসবহুল বহুতল ভবন,
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় এই মোরশেদ মনির আপন ছোট ভাই ১৩ নং ওয়ার্ডের প্রভাবশালী কাউন্সিলর খুরশিদ আহমেদ টোনা একই ওয়ার্ডের আফসার মল্লিক নামে এক ব্যক্তির জায়গা জোরপূর্বক দখল করে বানিয়েছেন তার বিলাস বহুল বাড়ি, এছাড়াও রয়েছে শত কোটি টাকার জায়গা জমি ও একাধিক বহুতল ভবন। তাদের সংগ্রহে রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি।
মোরশেদ মনি প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান আমার বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা বক্তব্য দিচ্ছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা

আমি দীর্ঘদিন বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আসছি এবং আমি একটি বড় রাজনৈতিক দলের খালিশপুর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, আমার দ্বারা এই ধরনের কাজ হতেই পারে না।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31