
টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির বিরুদ্ধে রাজধানীর তুরাগ থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন এক বিবাহিত তরুণী। শনিবার (৩০ মার্চ) মামলাটি দায়ের হয়েছে বলে এস এফ টিভি প্রতিনিধি কে নিশ্চিত করেছেন তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা আনোয়ার।
তিনি বলেন, গতকাল রাত ৯টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) এক তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ জানান। পরে তুরাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীকে খুঁজে বের করে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এরপর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এই ঘটনায় কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলার তদন্ত চলছে। এর আগে এক কিশোরীকে (১৭) ধর্ষণের অভিযোগে গত বছরের ৫ এপ্রিল টাঙ্গাইল সদর থানায় গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।গ্রেফতার হওয়ার পর ওই মামলায় তিনি জামিনে মুক্তি পান।
গোলাম কিবরিয়া বড় মনি টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির বড় ভাই।সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী,শাজাহান খান এর মেয়ে জামাই এর বড় ভাই। গোলাম কিবরিয়া বড় মনির জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতিরও মহাসচিব ও টাঙ্গাইল ঠিকাদার সমিতির সভাপতি।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ এজাহারে অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী দুবাই প্রবাসী। সেই সুবাদে তিনি বাবার সঙ্গে দক্ষিণখান এলাকায় বসবাস করেন। দুই মাস আগে বড় মনির সঙ্গে তার ফেসবুকে যোগাযোগ হয়। পরিচয়ের সুবাদে বড় মনি তাকে ‘ছোট বোন’ বলে ডাকতেন। এরপর থেকে ভিকটিমের সঙ্গে বড় মনির ফোনে কথা বলতেন। এক পর্যায়ে ভিকটিমকে বড় মনির জানান, তার বাড়ি টাঙ্গাইলে। গত মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) রাত ১০টায় উত্তরা হাউজ বিল্ডিং মাসকট প্লাজার পেছনে এসে ভিকটিমকে ফোন দেন বড় মনি। তিনি বলেন,আপু আমি তো ঢাকায় এসেছি? তুমি কি আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবা? আমি সকালে টাঙ্গাইল চলে যাব।’ পরে ভিকটিম মাসকট প্লাজার পেছনে এসে বড় মনির সঙ্গে দেখা করে। বড় মনির তার গাড়িতে ভিকটিমকে উঠান। তার সঙ্গে কথা বার্তা শেষে ভিকটিমকে বাসার সামনে নামিয়ে দেন। এর পরদিন বুধবার (২৯ মার্চ) বিকেলে উত্তরা জমজম টাওয়ারের সামনে থাকতে ভিকটিমকে ফোন দিয়ে বলেন বড় মনির। সেই অনুযায়ী ভিকটিম সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জমজম টাওয়ারের সামনে আসেন। এর ঠিক ১০-১৫ মিনিট পর বড় মনির রিকশাযোগে আসেন এবং ভিকটিমকে রিকশায় করে তুরাগ থানা এলাকার প্রিয়াংকা সিটি নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বড় মনি।
বড় মনির ও ছোট মনির দুই ভাই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের টাংগাইল জেলা রাজনীতি সাথে জড়িত।টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমি অসুস্থ আমি হাসপাতালে ভর্তি আছি। আমি সুস্থ হয়ে এ ব্যাপারে মন্তব্য করবো। বড় মনিরের বিরুদ্ধে জমি দখল,পরিবহন চাঁদাবাজি,ধর্ষণ সহ অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া যায়।










