
শীর্ষ মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসী, মায়ের ওপর বোমা নিক্ষেপকারী একাধিক মামলার আসামি সেই বোমা কালামকে ডাকাতি প্রস্তুত কালে দেশি অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ।
নিজ মায়ের ওপর বোমা হামলার পর থেকে সে বোমা কালাম নামে এলাকায় পরিচিত। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা বেলগাছি বাগানপাড়া গ্রামের মোঃ সাহেব মালিথার ছেলে মোঃ আবুল কালাম (বোমা কালাম) (৪২),কে ডাকাতি প্রস্তুত কালে দেশি অস্ত্রসহ
আলমডাঙ্গা টু চুয়াডাঙ্গা সড়কের রোয়াকুলি নামক জায়গা থেকে হাতেনাতে
আটক করেছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় এসআই সৈয়দ ফরহাদ আলী, সঙ্গীয় ফোর্স সহ গত শনিবার রাত ৩০/০৩/২০২৪ তারিখে আলমডাঙ্গা থানা এলাকার রাত্রীকালিন মোবাইল ডিউটি সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আনুমানিক রাত ১টা ২৫ মিনিটে সময় জানা যায় আলমডাঙ্গা থানা এলাকার রোয়াকুলি গ্রাম থেকে চুয়াডাঙ্গা টু আলমডাঙ্গা গামী ঘোড়ামারা মাঠ নামক স্থানে মৃত দাউদ মন্ডল এর ভুট্টা ক্ষেতের সামনে পাঁকা রাস্তার উপর আনুমানিক ৮ থেকে ৯ জন ডাকাত সদস্য দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে ডাকাতি করার প্রস্তুতি গ্রহণ করিতেছে রোয়াকুলি নামক জায়গায় ।
উক্ত সংবাদে পৌছাইলে পুলিশের উপস্থিতি টের পাইয়া ডাকাত দলের সদস্যরা পার্শ্ববর্তী ভূট্টা ক্ষেত দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে
সৈয়দ ফরহাদ আলী, সঙ্গীয় ফোর্স সহ একটি টিম ধাওয়া করে আবুল কালাম (@বোমা কালাম ) নামে ০১ জন কে দেশি অস্ত্রসহ আটক করে। এবং ৭/৮ জন ডাকাত দলের সদস্যরা দৌড়ে পালিয়ে যায় আসামের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া সাত থেকে আট জনের ব্যাপারে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে জানায় পলাতক ০১ জন আসামীর উপরোক্ত নাম ঠিকানা প্রকাশ করে। অন্যান্য ডাকাত দলের সদস্যদের নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করিলে সে তাদের নাম ঠিকানা জানে না কিন্তু তাদের দেখলে চিনিতে পারবে মর্মে জানায়। এ সময় তল্লাশী করিয়া পলাতক ডাকাত দলের সদস্যদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ৩টি রামদা, ১টি চাকু, ১টি রশি, ১টি রড, উদ্ধার করে । ৩১শে মার্চ রবিবার ২০২৪ তারিখে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে কালাম দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছেন। নিজের বাড়ির সামনে সরকারি জায়গা দখল করে করেছে ব্যক্তিগত অফিস। তিনি নিজেকে বোমা কালাম নামে পরিচয় দেন। এছাড়াও সাউন্ডবক্সে লাউড ভলিউমে মিউজিক বাজিয়ে মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছেন বলে দীর্ঘদিন। ইতঃপূর্বেও কালামকে মাদক, ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিলো।
বেশ কয়েকবছর আগে তার মা তাকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকতে নিষেধ করায় তিনি তার মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাতবোমা ছোড়ে। ভাগ্যক্রমে তার মা বেঁচে যান। সেই থেকে তিনি বোমা কালাম নামেই পরিচিত। এরপর থেকে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক বিক্রি, অস্ত্র, মিছিলে বোমা নিক্ষেপসহ বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে তার নামে। বছর খানেক পূর্বে জেল থেকে বাড়ি এসে আবারও গাঁজা বিক্রি শুরু করে। গ্রামের কেউ নিষেধ করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ আছে।
এছাড়াও, আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাদকসহ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। পরে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। মাদক মামলায় কয়েক মাস জেলে থাকার পর তিনি জামিনে হাজতমুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন। তারপর থেকে কিছুদিন চুয়াডাঙ্গা শহরে ও পরে বেলগাছিতেই অবস্থান করে আসছিলেন। ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার নিজ ঘরের বিছানার নিচ থেকে একটি ওয়ান শুট্যারগান উদ্ধার করে। ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ার নৌকার প্রতীকের মোটরসাইকেল মিছিলে ককটেল হামলা মামলার এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন বোমা কালাম। ওই ঘটনার কয়েকদিন পর বোমা কালামকে বিজিবি গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের কিছুদিন পর বাড়ি এসে শুরু করে মাদক ব্যবসা। কয়েক বছর পূর্বে আটক কালাম তার নিজের মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা ছুঁড়ে মারলে বোমাটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশেই বিস্ফোরিত হয়। সৌভাগ্যবশত বেঁচে যান তার মা। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় তিনি বোমা কালাম হিসেবে চিহ্নিত। ২০১২ ও ২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় আরও দুটি মামলা দায়ের হয়।










