সংসদ নির্বাচন যেতে না যেতেই উপজেলা নির্বাচনের হইচই পরেছে পূর্বধলায়

সংসদ নির্বাচন যেতে না যেতেই উপজেলা নির্বাচনের হইচই পরেছে পূর্বধলায়

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই নেত্রকোনার পূর্বধলায় শুরু হয়েছে উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি। আগামী এপ্রিল শেষ সপ্তাহে শুরু হয়ে মে মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ধাপে ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।

তবে এবার দলীয় প্রতীক না থাকায় এই উপজেলা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের একাদিক সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরব রয়েছেন। ইতিমধ্যে উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার, পোস্টার তৈরি করে প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে। হেভিওয়েট প্রার্থী মাছুদ আলম টিপু মোটর সাইকেল শোডাউন দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন নির্বাচনের আগাম বার্তা। তৃণমূল রাজনৈতিক ব্যক্তিগণ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সমাজসেবকগণ নিজেদের প্রার্থীতা ঘোষণা করছেন। আবার এসব প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরাও বসে নেই। তারা নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকসহ নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ উপজেলায় আ.লীগের নেতারা ছাড়া অন্য কোনও দলের প্রার্থী এখনও মাঠে নামেনি বা নামার সম্ভাবনাও নেই।বিএনপি নেতারা বলছেন, এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা এলে বলা যাবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা। তবে তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানান।গত ২০১৯ সালের ১৮ জুন স্থগিত হওয়া ১ম ধাপে পূর্বধলা উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উপজেলার ১১টি ইউপি’র ৭৪টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা) মো. জাহিদুল ইসলাম সুজন ৫৭ হাজার ৭৫৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) মো. মাছুদ আলম টিপু পেয়েছেন ৩৪ হাজার ২৬৭ ভোট। এবছর দলীয় প্রতীক বরাদ্দ না হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার মাধ্যমে নির্ণয় হবে ফলাফলের মাপকাঠি।টানা তৃতীয়বার জয়ের আশায় আবারও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে লড়বেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম সুজন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক মো. মাছুদ আলম তালুকদার টিপু। অপর প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও পূর্বধলা সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মরহুম সিরাজুল ইসলাম’র জৈষ্ঠ পুত্র ও জেলা আ.লীগের নেতা এটিএম ফয়জুর সিরাজ জুয়েল। এবারের নির্বাচনে তারা শক্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে এ পর্যন্ত যারা সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিবীদের জেলা আ.লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী, জেলা আ.লীগের সদস্য ও বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ রাজু আহমেদ রাজ্জাক সরকার, শিক্ষক নেতা উপজেলা কাপাশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কফিল উদ্দিন খান, বতর্মান এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ হোসেন’র ভাতিজা মিজানুর রহমান মুজিবুর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল হাননান খানের ভাতিজা রাশেদ কদ্দুছ খান সুজন, জারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম মন্ডন নান্টু, ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান একেএম মাজহারুল ইসলাম রানা, বৈরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদার মোশারফ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মো. শাহীন সরকার, পূর্বধলা বাজার বণিক সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যবসায়ী আব্দুল মোমেন জুয়েল। সাবেক ছাত্রনেতা আবুল কালাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, এছাড়া একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে জেলা পরিষদ সংরক্ষিত আসনের সদস্য শাহনাজ পারভীন প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন।
এইসব প্রার্থীদের একটাই বক্তব্য যেহেতু দলীয় প্রতীক তুলে দেয়া হয়েছে তাই নির্বাচন করার জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে দলীয় সিন্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচন করবে না। সাধারণ ভোটাররা ভোট সেন্টারে গিয়ে তাদের প্রছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়া নিশ্চিত করলে ভোট যুদ্ধ নয়, ভোট উৎসবে পরিণত হবে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031