
আসমানখালি তদন্ত কেন্দ্র-পুলিশ এসআই
আলতাফ হোসেন এর টেবিলের ওপর রাখা কালো রংয়ের অ্যান্ড্রয়েড সেট দেখিয়ে বললেন, দেখুন তো এটি আপনার সেই হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন কি না। আলমডাঙ্গা থেকে আসা রফিকুল ইসলাম চিনতে ভুল হয়নি।
রফিকুল ইসলাম হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেটি নিতে এসেছেন আলমডাঙ্গা উপজেলার আসমানখালি তদন্ত কেন্দ্রে।
অপরদিকে শালিকা গ্রাম থেকে আসা মোঃ লিজন আহম্মেদ চিনতে ভুল হয়নি। তার চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক। নিজের চোখকেও যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। সত্যি সত্যিই হারিয়ে যাওয়া ফোনটি তার হাতে তুলে দিচ্ছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
রফিকুল ইসলাম এস এফ টিভি কে বলেন, আমার ফোনটা হারিয়ে গেছে গত এক বছর হয়ে গেল।
তিনি জানান, তিনি বাসের সিটে বসে বড়জোর ৩০ সেকেন্ড পরই টের পান মোবাইল ফোনটা হাওয়া হয়ে গেছে। একজন সহযাত্রী কল দিলেন, দুইবার রিং হলো। তৃতীয়বার বন্ধ পেলেন। বাসের চালকের সহকারী এসে বললেন, ভাই আপনার ফোন তো পকেটমাররা নিয়ে গেছে।
সহযাত্রীদের কেউ কেউ তাকে বাস থেকে নেমে পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন। বলেন, পুলিশ চাইলে পারবে। এক তরুণ বললেন, ডিডিটাল বাংলাদেশে অ্যান্ড্রয়েড ফোন উদ্ধার করা পুলিশের জন্য কোনো ব্যাপারই না।
হারানো মোবাইল উদ্ধারে পুলিশ সত্যিই সক্ষম
জানতে চাইলে আসমান খালি তদন্ত কেন্দ্রের (এসআই) আলতাফ হোসেন বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। তারপরও তারা পেশাদার। অভিযোগ পেলে হারানো বা খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করেন।
রফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোন উদ্ধারের বিষয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তিনি গত 5 ডিসেম্বর অভিযোগ পেয়ে অভিযান শুরু করেন। প্রথমে আইএমই নম্বর চারটি মোবাইল কোম্পানির কাছে পাঠান। এরপর একটি কোম্পানি থেকে ওই আইএমইর নম্বরের অ্যাগেইনস্টে সিম ব্যবহারের তথ্য পান।
গত ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত এক এক হাজার ফোন উদ্ধার করেন।
আসমানখালী তদন্ত কেন্দ্র এস আই মো. আলতাব হোসেন বলেন, আসমানখালি তদন্ত কেন্দ্র-পুলিশ গত এক মাসে প্রায় 3টি হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। এসব মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে মানুষজন অবাক ও খুশি হন। পুলিশের এই তৎপরতা আরও গতিশীল করা হবে।










