
তপন দাস, নীলফামারী:
নীলফামালীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে উত্তোলিত পাথর পরিবহনের সময় ৪১০ ঘনফুট পাথরসহ একটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে আটক করে মামলা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পাথর উত্তোলন, মজুত ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত কথিত মূল হোতা হিসেবে পরিচিত মো. জাহাঙ্গীর আলম খানের নাম মামলার আসামির তালিকায় নেই। এতে অবৈধ পাথর বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ডিমলা উপজেলা হাসপাতাল মোড় এলাকায় তিস্তা নদী থেকে উত্তোলিত পাথর পরিবহনের সময় স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি আটক করেন। পরে ডিমলা থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাথরবোঝাই ট্রাকটি জব্দ করে। ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৯০৯৪। ট্রাকটি থেকে ৪১০ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়।এ সময় ট্রাকচালক মো. অহেদুল হককে (৫৭) আটক করে পুলিশ। তিনি কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা এলাকার মৃত চাঁদ মামুদের ছেলে। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের গয়াবাড়ি গ্রামের মৃত মোশারফ খাঁর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম খানের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলন, মজুত ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করে আসছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ ঘটনায় ডিমলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. একরামুল হক বাদী হয়ে ২৫ অক্টোবর রাতে থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ২৮।ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তবে তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যাঁদের নাম স্থানীয়দের বক্তব্যে এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।