
মোঃ আব্দুর রহমান হেলাল:- ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরচটকিমারা এলাকায় মো. জামাল উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীকে রাতের বেলায় মারধর করে গুরুতর আহত ও অচেতন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মনির হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে চরচটকিমারা এলাকায় জামাল উদ্দিনের দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিনের অভিযোগ, রাতের বেলায় মনির হোসেনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি তার দোকানে এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে মারধরের কারণে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় হাসপাতালে পাঠান।
আগের অভিযোগের জেরেই হামলার অভিযোগ জামাল উদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মনির হোসেন কিছুদিনের জন্য এলাকা ছেড়ে চলে যান। ওই সময়ে মনিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। পরবর্তীতে মনির এলাকায় ফিরে আসার পর ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জামালের দাবি, এলাকায় ফিরে আসার পর মনির হোসেন তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে তার দোকানে এসে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, রাতে দোকানের দিক থেকে চিৎকার ও মারধরের শব্দ শুনে কয়েকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। তারা সেখানে যাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তিকে দ্রুত চলে যেতে দেখেন। পরে জামাল উদ্দিনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জসিম বলেন, রাতে একজন ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে মনির হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য এ প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মামলা দায়েরের প্রস্তুতি ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে হামলার প্রকৃত কারণ, কারা এতে জড়িত এবং ভুক্তভোগীর অভিযোগের সত্যতা—এসব বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।