
নিজস্ব প্রতিবেদক, চুয়াডাঙ্গা | ২৯ মার্চ ২০২৬চুয়াডাঙ্গা জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহে শৃঙ্খলা ফেরাতে যানবাহন চালকদের জন্য ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। রবিবার (২৯ মার্চ) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করে এই কার্ড সংগ্রহ করতে হবে, অন্যথায় ১ এপ্রিল থেকে পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ সীমিত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহে অনিয়ম ও সংকট মোকাবিলায় এই বিশেষ কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত যানবাহন শনাক্ত করে নির্ধারিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।জেলার পরিবহন খাতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গায় বর্তমানে আনুমানিক ৮০ হাজার থেকে ১ লাখের বেশি পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল চালিত যানবাহন চলাচল করছে। এর মধ্যে—মোটরসাইকেল (পেট্রোল/অকটেন): ৬০,০০০ – ৯০,০০০প্রাইভেট কার/মাইক্রোবাস: ৩,০০০ – ৬,০০০ডিজেল চালিত বাস-ট্রাক-পিকআপ: ৫,০০০ – ৭,০০০ফলে এত বিপুল সংখ্যক যানবাহনকে সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি সরবরাহের আওতায় আনতে এই কার্ড ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, চালকদের—ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপিগাড়ির রেজিস্ট্রেশন কাগজপত্রএক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবিজমা দিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনকে তেল দেওয়া হবে না বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। এতে করে অবৈধ মজুদ, কালোবাজারি ও অতিরিক্ত ক্রয় রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ দ্রুত কার্ড সংগ্রহ ও সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।একজন মোটরসাইকেল চালক জানান, “কার্ড পদ্ধতি ভালো উদ্যোগ, তবে যদি সহজে না পাওয়া যায় তাহলে ভোগান্তি বাড়বে।”সংশ্লিষ্টরা বলছেন—জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা আনাঅতিরিক্ত মজুদ ও অপচয় বন্ধ করাপ্রকৃত ব্যবহারকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া—এই তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখেই ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে।চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি নির্ভর যানবাহন (আনুমানিক)পেট্রোল/অকটেন: ৭০–৯৫ হাজারডিজেল: ৫–৭ হাজারমোট: ৮০ হাজার – ১ লাখ+জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়। তবে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।(প্রতিবেদন প্রস্তুতিতে: জেলা প্রশাসন সূত্র, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও মাঠ পর্যায়ের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে)