
:চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে আগাছা দমনের জন্য প্রয়োগ করা বিষে ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক বিষ বিক্রেতার বিরুদ্ধে নিম্নমানের বা ভেজাল বিষ বিক্রির অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আসাননগর গ্রামের মৃত আসমান মন্ডলের ছেলে মস্তক আলী জানান, প্রায় এক মাস আগে ধানের জমির আগাছা পরিষ্কারের জন্য আলমডাঙ্গার হাফিজ মোড় রোডের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে আগাছানাশক ক্রয় করেন। তবে দুই সপ্তাহ পার হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় তিনি পুনরায় ওই বিক্রেতার কাছে গেলে তাকে অন্য একটি বিষ দেওয়া হয়।তিনি আরও জানান, দ্বিতীয়বার প্রাপ্ত বিষ জমিতে স্প্রে করার তিন দিনের মধ্যে ধানের গাছ গোড়া থেকে পুড়ে যায়। এতে পুরো জমির ধান নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি বিক্রেতাকে জানালে তিনি ঈদের ছুটির কথা উল্লেখ করে কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন। ঈদ পরবর্তী সময়ে কোম্পানির প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কৃষক।এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তিনি অন্য স্থান থেকে বিষ সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। কৃষি অফিসারের পরামর্শ ছাড়া বিষ বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী চললে ধান উৎপাদন সম্ভব নয়।” এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এদিকে একমাত্র আয়ের উৎস ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক মস্তক আলী। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহলের সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও তার বিরুদ্ধে নকল দস্তা সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।