
রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি-তে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সকালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক বছর মেয়াদি কঠোর মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) এই সমাপনী প্যারেড ছিল শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের অনন্য প্রদর্শনী।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলী হোসেন ফকির, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি)। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজি) জি এম আজিজুর রহমান।কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী নবীন কর্মকর্তারা সুসমন্বিত পদচারণা, নিখুঁত ড্রিল ও শারীরিক সক্ষমতার মাধ্যমে প্রশিক্ষণের সফলতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, অভিভাবক ও দর্শনার্থীরা তাদের এই পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং করতালির মাধ্যমে অভিনন্দন জানান।প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক কর্মকর্তার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সততা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরপেক্ষতা ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।আইজিপি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন ও চ্যালেঞ্জ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এসব মোকাবেলায় আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি। নবীন কর্মকর্তাদের তিনি সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জন ও পেশাগত উন্নয়নে সচেষ্ট থাকার পরামর্শ দেন।অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মাঝে পদক ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। সেরা ক্যাডেট, শুটিং, একাডেমিক, আউটডোর ও নেতৃত্বগুণসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কৃতিত্ব অর্জনকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারদের জন্য এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণে আইন, তদন্ত, অপরাধ দমন, অস্ত্রচালনা, শারীরিক সক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এই প্রশিক্ষণ শেষে কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হন।অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের পেশাগত জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।