ইরানের ওপর চলমান মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য হলে তারা আর বসে থাকবে না।জেনারেল ইয়াহিয়া সারি তার বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ (Greater Israel) পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, “তেল আবিব ও ওয়াশিংটন পশ্চিম এশিয়ায় তাদের দখলের সীমানা বাড়াতে চাইছে। আমরা নিশ্চিত করছি যে, সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য আমাদের হাত এখন ট্রিগারেই রয়েছে।”ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মতে, এই আগ্রাসন সম্পূর্ণ ‘অন্যায়, নিপীড়নমূলক এবং অযৌক্তিক’, যা কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নয় বরং বিশ্ব অর্থনীতিকেও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।বিবৃতিতে ইয়েমেন স্পষ্ট করেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে: ১. ইরান বা অন্য কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে যদি লোহিত সাগর ব্যবহার করা হয়। ২. যদি এই যুদ্ধে নতুন কোনো তৃতীয় পক্ষ ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যোগ দেয়। ৩. যদি ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (Axis of Resistance) তথা বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের ওপর হামলার পরিধি বাড়ানো হয়।বিবৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কথার প্রতিফলন ঘটিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে দক্ষিণ ইসরাইল লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর একটি প্রাথমিক মহড়া বা সংকেত।একদিকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিলেও অন্যদিকে জেনারেল সারি আগ্রাসন বন্ধের লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সাড়া দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই সংঘাতকে ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে রুখে দাঁড়ানোর ‘বৈধ অধিকার’ হিসেবে বর্ণনা করেন।লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ এবং হুতিদের এই সরাসরি হস্তক্ষেপের ঘোষণা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, কারণ ইতিপূর্বেই ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।










