স্বাধীনতার রক্তঝরা ইতিহাসকে হৃদয়ে ধারণ করে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে গভীর শ্রদ্ধা, উৎসাহ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সূর্যোদয়ের প্রথম আলো ফুটতেই কালিহাতী আর এস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ। পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির সূর্যসন্তান শহীদদের প্রতি জানানো হয় বিনম্র শ্রদ্ধা, আর নীরব প্রার্থনায় স্মরণ করা হয় তাদের অমলিন আত্মত্যাগ।এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় মাঠজুড়ে শুরু হয় প্রাণবন্ত আয়োজন। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ, সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ ও মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের গর্বিত মুহূর্তে একসঙ্গে ধ্বনিত হয় জাতীয় সংগীত যেন স্বাধীনতার চেতনাই নতুন করে জেগে ওঠে সবার মাঝে।সকাল ১০টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে দিনের সবচেয়ে আবেগঘন পর্ব। কৃতজ্ঞ জাতির পক্ষ থেকে তাদের প্রতি জানানো হয় গভীর সম্মান। পরবর্তীতে সাড়ে ১০টায় আয়োজন করা হয় পুরস্কার বিতরণী, যেখানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা।দিবসটির তাৎপর্যকে আরও গভীর করতে বাদ জোহর মসজিদ ও মন্দিরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভবঘুরে ও এতিমখানায় পরিবেশন করা হয় উন্নতমানের খাবার। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয় স্বাধীনতার ইতিহাস ও সংগ্রামের গৌরবগাথা।দিনব্যাপী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েদা খানম লিজা, কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জে ও এম তৌফিক আজম, কালিহাতী আর এস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান তালুকদারসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।










