মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রেল ব্রিজ সংলগ্ন বধ্যভূমিটি বর্তমানে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে তার পবিত্রতা হারানোর শঙ্কায় রয়েছে। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত দর্শনার্থীদের ভিড়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম সোলায়মান হক জর্দারের উদ্যোগে নির্মিত এই বধ্যভূমি দীর্ঘদিন ধরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে এর মূল ইতিহাস ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাচ্ছে।
বিশেষ করে ঈদ উৎসব ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন—বিশেষত শুক্রবারে—এই স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, অনেক দর্শনার্থীই এই স্থানটির প্রকৃত ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত নন। বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত হলেও এখানে শহীদদের ইতিহাস, ঘটনার বিবরণ বা তথ্যসম্বলিত কোনো নামফলক বা নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড না থাকায় দর্শনার্থীরা সঠিক ধারণা পাচ্ছেন না।
এর ফলে অনেকেই অজ্ঞতাবশত স্মৃতিস্তম্ভে জুতা-স্যান্ডেল পরেই চলাচল করছেন, এমনকি বধ্যভূমির উপরেই জুতা পায়ে উঠে পড়ছেন—যা শহীদদের প্রতি চরম অসম্মান হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, “যারা এখানে আসছেন, তাদের অনেকেই জানেন না এটি একটি বধ্যভূমি। যথাযথ তথ্য ও নির্দেশনা না থাকায় তারা অনিচ্ছাকৃতভাবেই অসম্মানজনক আচরণ করছেন।”
তাদের মতে, এই স্থানটি বর্তমানে অনেকাংশে বিনোদনকেন্দ্রের রূপ নিচ্ছে, যা একটি ঐতিহাসিক ও পবিত্র স্থানের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য স্থানীয়রা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত বধ্যভূমিতে ইতিহাসভিত্তিক নামফলক স্থাপন, সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড বসানো, জুতা পরিহিত অবস্থায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের অভিমত, শহীদদের স্মৃতির যথাযথ সংরক্ষণ ও সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তাই আলমডাঙ্গার এই ঐতিহাসিক বধ্যভূমিকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।










