
পাবনার ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট, পোস্ট অফিস মোড় ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। পাল্টাপাল্টি মারধর, অফিস ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে সোমবার সকালে উভয় পক্ষ পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপুরে দুই পক্ষই শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে।এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে শহরের বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দলীয় অফিস ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলিতে পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা প্রাণভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তবে উত্তপ্ত জনতা পুলিশের ওপরও চড়াও হয়। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ দুই পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।বিকেলের পর অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে শহরজুড়ে এখনও চরম থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মোড়ে মোড়ে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে বলেন:"রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"