
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা ‘কাসমিয়া সেতু’ বিমান হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এর ফলে দেশটির দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (২২ মার্চ) ইসরাইলের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ লিতানি নদীর ওপর সব পারাপারের পথ এবং সীমান্ত সংলগ্ন লেবাননের অভ্যন্তরে সব ঘরবাড়ি ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়ার পরপরই এই হামলা চালানো হয়।কাসমিয়া সেতুটি ছিল দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের জন্য যাতায়াত এবং পণ্য সরবরাহের প্রধান ধমনী। লিতানি নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি ধ্বংস হওয়ায় দক্ষিণ লিতানি অঞ্চলটি এখন লেবাননের বাকি অংশ থেকে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন। এর ফলে ওই এলাকায় আটকা পড়া হাজার হাজার মানুষের কাছে খাদ্য, ওষুধ এবং জরুরি ত্রাণ পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন:কাসমিয়া সেতুতে এই হামলা ছিল দক্ষিণ লিতানি অঞ্চলকে লেবাননের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা। এটি কেবল একটি অবকাঠামো ধ্বংস নয়, বরং দক্ষিণ লেবাননের সাধারণ মানুষকে অবরুদ্ধ করে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করার একটি চক্রান্ত।"মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সেতুটি ধ্বংস হওয়ায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো এখন দক্ষিণ লেবাননের দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না। ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) লিতানি নদীর উত্তর তীরের সব বাসিন্দাকে এলাকা ছাড়ার যে নির্দেশ দিয়েছিল, এই সেতু ধ্বংসের ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পথও রুদ্ধ হয়ে গেল।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লিতানি নদীর উত্তরের সব পারাপারের পথ ধ্বংসের মাধ্যমে ইসরাইল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলকে একটি ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বা বাফার জোনে পরিণত করতে চাইছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য হলো উত্তর সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহর হুমকি চিরতরে নির্মূল করা, আর সে লক্ষ্যেই এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ।বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবানন জুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।