
চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা: রবিবার, ২২ শে মার্চ সকাল ১১টায় আলমডাঙ্গা জামজামী এলাকায় মেধা ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মুক্তিপ্রাপ্ত, অতিদরিদ্র ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট এবং সনদ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্য অনুযায়ী কিছু শিক্ষার্থীকে বিশেষ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে এবং একজন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, যিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতায় অংশগ্রহণ করে তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উজ্জল কুমার কুন্ডু (ইউ এল, হরিনাকুন্ডু), আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক ও আলমডাঙ্গা একাডেমির পরিচালক মোঃ আব্দুল হাই, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তাপস রশীদ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মোঃ আব্দুল মালেক, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ আমিরুল ইসলাম, হাটবোয়ালিয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রহিম, রূপালী ব্যাংক আলমডাঙ্গা শাখার ম্যানেজার মোঃ আব্দুল খালেক, স্কলারস মডেল স্কুল ও হানেমা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোঃ আতিকুর রহমান, বিএনপি জামজামী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মোঃ আলম শাহ, জামজামী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোঃ ফজলুল হক এবং অন্যান্য স্কুল শিক্ষকবৃন্দ।
ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন আবির আহাদ, কো-চেয়ারপার্সন আবু আসলাম, সেক্রেটারি গোলাম শওকত বিস্কুট, পরিচালক মোঃ ইকরামুল হক এবং নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি অভিভাবকদের দায়িত্বের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানেরা আমাদের প্রকৃত সম্পদ। মেধাবীরা আমাদের দেশের ভবিষ্যত। যদি আমরা তাদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করি, আমাদের দেশ একটি সুন্দর দেশে পরিণত হবে। অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, সন্তানদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং তাদেরকে বাজে অভ্যাস থেকে রক্ষা করা। শুধুমাত্র লেখাপড়া নয়, নৈতিকতার শিক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সন্তানদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও ন্যায়পরায়ণতা জন্ম দিতে হবে। এতে তারা বড় হয়ে সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে। মেধার সঙ্গে নৈতিকতাও নিশ্চিত করতে হবে যেন তারা কখনো অন্যায়ের পথ না বেছে নেয়।”
প্রধান অতিথি আরও বলেন, “আজকের অনুষ্ঠান মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রেরণা। আমাদের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে আরও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী জন্ম নিক এবং এ ধরনের উদ্যোগ তাদের মেধা ও নৈতিকতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুললে সমাজের উন্নয়ন সম্ভব হবে। আমরা একসাথে মিলে আমাদের সমাজকে সুন্দর ও শিক্ষিত করতে পারব।”
ফাউন্ডেশন ও উপস্থিত অতিথিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই বৃত্তি বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নতুন উদ্যম যোগ করবে এবং তাদের মেধার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।