চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার হত্রপাড়া ও ছাত্রপাড়া গ্রামে ঈদের দিন সংঘর্ষে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি শুরু হয়েছিল স্থানীয় ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে, যা ধীরে ধীরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশাল সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হৃদয় হোসেন নামের এক যুবক কয়েকদিন আগে ঢাকায় অবস্থানকালে ফেসবুকে একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস দেন। এই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে হৃদয়ের বিরোধ তৈরি হয় স্থানীয় জামায়াত সমর্থকদের সঙ্গে। ঈদের দুই দিন আগে হৃদয় বাড়ি ফেরার পর উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
ঈদের দিন দুপুরে হৃদয় এবং তার সমর্থক পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয় আব্দুল্লাহ ও সাহাবুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহর সঙ্গে। একপর্যায়ে এটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় হৃদয় ও তার চাচা বজলু আহত হন। পাল্টা হামলায় আব্দুল্লাহর মা আলিয়া বেগম, জামায়াত কর্মী তরিকুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আহত হন। উভয় পক্ষের দোকানপাট ও বাড়িঘরও ভাঙচুরের শিকার হয়।
ঘটনার পর বিএনপির দুই গ্রুপ—হান্নান-কুবির গ্রুপ এবং লাল খাঁ-জাহাঙ্গীর গ্রুপ—সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কুবির কাজি ও নাবু কাজির ছেলে শিমুল কাজি গুরুতর আহত হন। শিমুলকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
একই সময় সংঘর্ষের খবর শুনে নাজিম উদ্দিন কাজি (৭০) বাড়ির বাইরে বের হন। এই সময় তিনি পড়ে যান এবং স্ট্রোক থেকে প্রাণ হারান। নিহত নাজিম উদ্দিন কাজি শিমুল হোসেনের দাদা এবং একই গ্রামের মৃত ইংরেজ আলী কাজির ছেলে। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ বলছেন তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন, আবার কেউ দাবি করছেন নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির জাহাঙ্গীর গ্রুপের নেতৃত্বে লাল খাঁ ও জাহাঙ্গীর সরাসরি হামলায় অংশ নেন। দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং ভোট-সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের ধারাবাহিকতায় সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় ছত্রপাড়া মসজিদের সামনে থেকে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের কয়েকজনও আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। আছিয়া বেগম ও শরিফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করে আটক করার জন্য অভিযান চলছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানান, “ঘটনার পেছনে পূর্ববর্তী সম্পত্তি বিরোধের প্রভাবও রয়েছে। স্থানীয় তদন্ত চলছে এবং ভিকটিমদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এখনও পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।










