
:সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় নিহত কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রবাসী বাচ্চু মিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি নিজে নিহতের বাড়িতে গিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন।মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মাগরিবের পর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিহত বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।এ সময় নিহতের মা ফাতেমা বেগম ও স্ত্রী জোছনা বেগম দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “নিহতের পরিবারের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি। আপাতত প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট শিডিউল পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত মরদেহ দেশে আনা হবে।” তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়া গেলে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।এছাড়াও নিহতের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য মাসিক ভাতা প্রদান এবং পরিবারটিকে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি। পরিবারটির জন্য জমির ব্যবস্থা করতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিও আহ্বান জানান মন্ত্রী।প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, বিশেষ করে বিদেশি সামরিক স্থাপনার আশপাশ এড়িয়ে চলতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন-কানুন মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবেদনশীল ছবি ও ভিডিও প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেনসহ প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণে বাচ্চু মিয়াসহ দুইজন বাংলাদেশি নিহত হন। আহত হন আরও অন্তত ১২ জন। ধারণা করা হচ্ছে, নিকটবর্তী একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার বিস্ফোরণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।