
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকায় মতলব মিয়া চাতালের পাশে ফুটপাত ও ড্রেন দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এতে করে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই শফিউল্লাহ (পিতা: মৃত মতলব মিয়া) ২০১৭ সালে আলমডাঙ্গা পৌরসভা থেকে একতলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেন। পরবর্তীতে তিনি তার ভাইসহ ভবনের কাজ শুরু করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে কোনো নতুন অনুমোদন ছাড়াই ২০২৬ সালে ড্রেনের পাশ ঘেঁষে আরসিসি পিলার স্থাপন করে তিনতলা ভবন নির্মাণ করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ড্রেনের একেবারে ওপরেই সিঁড়িঘরসহ ভবনের অংশ নির্মাণ করা হয়েছে এবং ফুটপাত দখল করে গাড়ি ওঠানামার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ফলে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই শফিউল্লাহ বলেন, “আমি ২০১৭ সালে পৌরসভা থেকে অনুমতি নিয়ে ভবন নির্মাণ করেছি। ড্রেনটি আমার ব্যক্তিগত জায়গার ওপরেই রয়েছে। তাই আমি জিরো পয়েন্টে আরসিসি পিলার দিয়ে ভবন তুলেছি। পৌরসভার লোকজন এসেছিল, কিন্তু কেউ কাজ বন্ধ করতে বলেনি।”
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি দেখেও চুপ থাকছেন। এতে করে অন্যরাও ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ নির্মাণে উৎসাহিত হতে পারে।”
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা পৌরসভার সার্ভেয়ার নিশি খাতুন জানান, “আমি তিনদিন আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্ল্যান দিয়েছিলেন, তবে বর্তমানে যেভাবে নির্মাণ হচ্ছে তা অবৈধ। আমি কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। আবার কাজ শুরু করায় আমরা লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেব।”
অন্যদিকে, আলমডাঙ্গা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, “বিষয়টি আগে জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC 2020) অনুযায়ী রাস্তা ও ড্রেনের পাশ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে ভবন নির্মাণ বাধ্যতামূলক। এ নিয়ম না মানলে তা ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনবিরোধী হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া Building Construction Act, 1952 অনুযায়ী অনুমোদনবিহীন বা নকশা বহির্ভূত নির্মাণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ফুটপাত ও ড্রেন দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং জনদুর্ভোগ ও নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার কারণ হতে পারে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।