
১৭ মার্চ, ২০২৬যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর সাড়াঁশি অভিযানের মুখে বড় ধরনের ধাক্কা খেল ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব এবং অন্যতম প্রভাবশালী নেতা আলী লারিজানি ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর নিশ্চিত করেছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা পরিষদের দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার রাতে তেহরানের পূর্ব দিকে পারদিস (Pardis) এলাকায় লারিজানির মেয়ের বাসভবনে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় আলী লারিজানি ছাড়াও তার ছেলে মোর্তজা লারিজানি এবং ডেপুটি আলিরেজা বায়াতসহ বেশ কয়েকজন দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই অভিযানকে ‘সফল’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, লারিজানিকে ‘নির্মূল’ করা হয়েছে।আলী লারিজানি ছিলেন ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর লারিজানিকে দেশটির ‘ডি-ফ্যাক্টো’ বা ছায়া নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত এই উপদেষ্টা একই সঙ্গে কট্টরপন্থী এবং পশ্চিমা কূটনীতিকদের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।লারিজানির মৃত্যুর পর মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর পাঠানো শান্তি প্রস্তাব ও উত্তেজনা প্রশমনের সকল অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নতজানু করা হচ্ছে, ততক্ষণ শান্তির জন্য এটি সঠিক সময় নয়।” দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি এই হত্যাকাণ্ডের বিপরীতে ‘চরম ও অনুশোচনাযোগ্য’ প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।লারিজানি হত্যাকাণ্ডের পরপরই ইরান থেকে ইসরাইল অভিমুখে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় এলাকায় ৫ হাজার পাউন্ড ওজনের শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করার দাবি করেছে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির পর লারিজানির মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করবে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে ইরানি জনগণের জন্য ‘শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তির সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।আগামীকাল বুধবার সকালে তেহরানে আলী লারিজানি ও একই হামলায় নিহত বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।