
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকার একদিকে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করছে, অন্যদিকে দলীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে নারীর ওপর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হাজারীবাগ দক্ষিণ থানার উদ্যোগে দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সারাদেশে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। নারী ও শিশু ধর্ষণের পর পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু এসব ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী একদিকে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করছেন, অন্যদিকে দলীয় সন্ত্রাসীরা বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা করে পরিবার ধ্বংস করে দিচ্ছে। কিন্তু সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। দেশ ও জাতির স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করা হবে, তবে দেশ ও জাতির স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড সরকারকে করতে দেওয়া হবে না।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পরিচালিত জুলাই গণহত্যায় রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন চুপ্পু নীরব সমর্থন দিয়েছেন। ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হাজারো মানুষকে শহীদ করার পরও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে বহু ছাত্র আহত ও নিহত হয় এবং তাদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে এই আন্দোলনে কৃষক, শ্রমিক, ঠেলাভ্যান ও রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত হয় এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও সংহতি প্রকাশ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি বলেন, গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগ করলেও রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন চুপ্পু এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। নির্বাচিত সংসদের রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের ক্ষমতা থাকলেও সরকারি দলের সদিচ্ছার অভাবে তা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ড. মাসুদ অবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য ও হাজারীবাগ দক্ষিণ থানা আমীর আখতারুল আলম সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম খান, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।